হলিউডের ডিরেক্টরস গিল্ড অফ আমেরিকায় বুধবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে, রবার্ট ডাউনি জুনিয়র টিমোথি চ্যালামেটের ‘মার্টি সুপ্রিম’ ছবির প্রধান ভূমিকাকে প্রজন্ম‑সংজ্ঞায়িত পারফরম্যান্স এবং পুরো ছবিটিকে দশক‑সংজ্ঞায়িত কাজ বলে উল্লেখ করেন। এই মন্তব্যটি শিল্পের বহু পুরস্কারপ্রাপ্ত সদস্যের উপস্থিতিতে শেয়ার করা হয়, এবং একই সঙ্গে অনলাইন দর্শকদেরও লাইভ‑স্ট্রিমের মাধ্যমে দেখা যায়।
ডাউনি দুই বছর আগে ‘ওপেনহাইমার’ ছবিতে তার ভূমিকায় একাডেমি পুরস্কার জিতেছিলেন, যখন তিনি ৫৮ বছর বয়সী ছিলেন। তার প্রথম একাডেমি নোমিনেশন ৩১ বছর আগে, ২৭ বছর বয়সে ‘চ্যাপলিন’ ছবির জন্য আসে, যা তাকে সেই সময়ের অন্যতম তরুণ সেরা অভিনেতা প্রার্থীর মর্যাদা এনে দেয়। এই দুইটি মাইলফলক তার ক্যারিয়ারের গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে স্বীকৃত।
তিনি অতীতের কিছু প্রবীণ শিল্পীর, যেমন ওয়ারেন বিটি ও অ্যান্থনি হপকিন্সের, সমর্থনকে স্মরণ করে বলেন যে, তাদের উন্মুক্ত প্রশংসা তার জন্য অমলিন স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে। এই ধরনের স্বীকৃতি তার শিল্পী জীবনের গঠনমূলক মুহূর্ত হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন।
‘মার্টি সুপ্রিম’ দেখার পর ডাউনি ছবির বর্ণনা ও চ্যালামেটের অভিনয়ে মুগ্ধ হন। তিনি ভিডিও কলের মাধ্যমে ৩০ বছর বয়সী তরুণ অভিনেতার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন, যদিও দুজনের আগে কোনো ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল না। কলের সময় তিনি তার প্রশংসা প্রকাশ করেন এবং পারফরম্যান্সকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে একটি প্রশ্ন‑উত্তর সেশনের পরিচালনা করার প্রস্তাব দেন।
পরবর্তী সপ্তাহে দুজনই ডিরেক্টরস গিল্ডের হেডকোয়ার্টারে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেন। প্রথমে তারা একটি গ্রীন রুমে একান্তে বসে ছবির থিম, চরিত্রের গভীরতা এবং পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করেন। এই আলাপটি পরে প্রেসের কাছে প্রকাশিত হয়, যা শিল্পের মধ্যে ছবির গুরুত্বকে তুলে ধরে।
গ্রীন রুমের আলোচনা শেষ হওয়ার পর, একটি বিশাল থিয়েটারে প্রায় ৬০০ জন একাডেমি, ব্যাফ্টা এবং বিভিন্ন গিল্ডের সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনলাইন দর্শকরা পার্শ্ববর্তী থিয়েটারের স্ক্রিনে লাইভ‑স্ট্রিমের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি অনুসরণ করেন। উভয় পক্ষের উপস্থিতি ছবির শিল্পিক মূল্যায়নকে আরও দৃঢ় করে।
সেই জনসমাগমে ডাউনি উল্লেখ করেন যে, ‘মার্টি সুপ্রিম’ দীর্ঘ সময়ের জন্য স্মরণীয় হবে। তিনি ১৯৭৫ সালের একটি ডকুমেন্টারির কথা স্মরণ করেন, যা মর্গান নেভিলের দ্বারা তৈরি এবং সেই বছর চলচ্চিত্রের পরিবর্তনশীল প্রবণতা বিশ্লেষণ করে। ডাউনি বিশ্বাস করেন যে, এই নতুন ছবি ঐ ঐতিহাসিক মুহূর্তের মতোই ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্য রেফারেন্স হয়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও বলেন যে, এত তরুণ অভিনেতা এমন বিরল এবং শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখানো একটি দ্বিগুণ সূর্যগ্রহণের মতো, যা খুব কমই ঘটে এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। এই তুলনা তার চ্যালামেটের অভিনয়ের অনন্যতা ও বিরলতাকে তুলে ধরে।
ডাউনি ও চ্যালামেটের এই মিথস্ক্রিয়া শিল্পের মধ্যে ‘মার্টি সুপ্রিম’ ছবির স্বীকৃতি বাড়িয়ে তুলেছে, যা এখন পুরস্কার মৌসুমের অন্যতম প্রধান প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিল্পের অভ্যন্তরে এবং বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই ছবির থিম ও অভিনয়কে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হচ্ছে।
বাংলা পাঠকদের জন্য এই সাক্ষাৎকারটি দুই প্রজন্মের সংযোগের উদাহরণ, যেখানে একজন প্রতিষ্ঠিত হলিউড আইকন এবং এক উদীয়মান তরুণ তারকা একসাথে শিল্পের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সম্ভাবনা প্রকাশ করেন। এটি দেখায় যে, সৃজনশীলতা ও প্রতিভা বয়সের সীমানা অতিক্রম করে।
বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন যে, ডাউনি’র এই সমর্থন ছবির দৃশ্যমানতা বাড়িয়ে দেবে এবং ভোটার ও সাধারণ দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ জাগাবে, ফলে পুরস্কার নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে দুজনই পারস্পরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আশাবাদী হন যে, ‘মার্টি সুপ্রিম’ এর গল্প ও পারফরম্যান্স বিশ্বব্যাপী দর্শকদের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলবে।



