28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলা২০২৬ বিশ্বকাপের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নৈতিক প্রশ্ন উন্মোচিত

২০২৬ বিশ্বকাপের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নৈতিক প্রশ্ন উন্মোচিত

২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজনের দিকে অগ্রসর হওয়ায় রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে এড়িয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়েছে। পাঁচ মাস বাকি থাকলেও হোস্ট দেশ যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তা ও ভিসা নীতির কঠোরতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে ইরানসহ কয়েকটি যোগ্যতা অর্জনকারী দেশের অভ্যন্তরীণ অশান্তি টুর্নামেন্টকে ছায়া ফেলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। দেশের শহরগুলোতে সশস্ত্র অভিবাসন কর্মকর্তা ঘুরে বেড়াচ্ছেন, যা ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। তাছাড়া বিদেশি দর্শকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া কঠোর করা হয়েছে, যা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কমিয়ে দিতে পারে।

ইরানও একই সময়ে বিশাল জনঅভ্যন্তরীণ অশান্তির মুখোমুখি। দেশের নাগরিকরা সরকারী নীতির বিরোধে প্রতিবাদে বেরিয়েছে, যার ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমনমূলক পদক্ষেপ দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি ইরানের ফুটবল দলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

ইরানের পাশাপাশি টিউনিশিয়া, ইকুয়েডর এবং ভবিষ্যৎ হোস্ট সউদি আরবিয়াতেও মানবাধিকার ও পরিবেশ সংক্রান্ত উদ্বেগ রয়েছে। টিউনিশিয়ায় গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের হ্রাস, ইকুয়েডরে পরিবেশগত অপরাধ এবং সউদিতে শ্রম ও মানবাধিকার সংক্রান্ত সমালোচনা টুর্নামেন্টের নৈতিক দিককে জটিল করে তুলছে।

ফিফের সভাপতি গিয়ানি ইনফ্যান্টিনো সাম্প্রতিক সময়ে টুর্নামেন্টকে “পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শো” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার এই মন্তব্যের পরেও আন্তর্জাতিক সমাজে এই ইভেন্টকে রাজনৈতিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কিছু বিশ্লেষক টুর্নামেন্টকে ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত ক্রীড়া ইভেন্টের মধ্যে এক হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

বিশ্বকাপের সম্ভাব্য কুসংস্কারও তীব্রতা পাচ্ছে। পূর্বের কিছু টুর্নামেন্টের মতোই ২০২৬ সালের এই আয়োজনও নৈতিক প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে, যা ক্রীড়া ও রাজনীতির জটিল সম্পর্ককে আবারও উন্মোচন করবে।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সময়ও একই ধরনের নৈতিক বিতর্ক দেখা গিয়েছিল। দুই বছর আগে সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একটি প্রচারণা চালায়।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তার জার্মানি শাখার উদ্যোগে “ফুটবল হ্যাঁ – নির্যাতন না” শ্লোগান দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। এই প্রচারণা বিশ্বকাপের নৈতিক দিক নিয়ে আলোচনার সূচনা করে এবং কিছু খেলোয়াড়ের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।

বিশেষ করে পশ্চিম জার্মানির পল ব্রাইটনার এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে অস্বীকার করেন, যা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত ম্যাচে আর্জেন্টিনার ক্যাপ্টেন ড্যানিয়েল পাসারেলা ট্রফি গ্রহণ করেন, যা তখনকার শাসক জর্জে ভিদেলা হাতে হস্তান্তর করেন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের স্পোর্টস ও মানবাধিকার বিভাগ প্রধানের মতে, এই ঘটনা বিশ্বকাপের বয়কট আহ্বান নয়, বরং মানবাধিকার রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল ছিল।

আজও বিশ্বকাপের নৈতিক দিক নিয়ে কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। ২০২৬ সালের টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি চলাকালে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়ছে, এবং ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে মানবাধিকার, পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

৮৮/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: The Guardian – Football
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments