ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বহিষ্কৃত আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানা ১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে সরাইল উপজেলার সদর দফতরের ৭ নং ওয়ার্ডের আলীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ভোট কারচুপির পরিকল্পনা সম্পর্কে সতর্কতা জানিয়ে দেন। তিনি জানান, সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের কিছু অংশে ভোটের ফলাফল আগের রাতেই গোপনে পরিবর্তন করার এবং কেন্দ্রগুলোকে বন্ধ করে সিল করার ইচ্ছা রয়েছে।
ফারহানা সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকদেরকে আত্মীয়, ভাই বলে সম্বোধন করে, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আপনারা আমার আত্মীয়, আপনারা আমার ভাই; ভোটকেন্দ্রগুলো আপনারাই পাহারা দেবেন।” এভাবে তিনি ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রার্থীর দাবি অনুযায়ী, যদি তিনি সরাইল-আশুগঞ্জের এমপি নির্বাচিত হন, তবে তিনি প্রথমে এলাকার পৌরসভা স্থাপন, আপেলাজা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সবার জন্য মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়ন পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া গ্যাস সরবরাহের বিষয়েও তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস অন্য কোথাও যাবে না; না হলে পাঁচ বছর পর আর ভোট দেবেন না।” তিনি এই প্রতিশ্রুতি আল্লাহর নামে তুলে ধরেন।
ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পরেও তার উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে বলেন, “স্বতন্ত্র হই, তবে আমাদের কাছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক বন্ধ করার ক্ষমতা আছে।” তিনি উল্লেখ করেন, যদি সরকার তার এলাকার মানুষের ন্যায্য দাবি শোনে না, তবে ঢাকা-সিলেট হাইওয়ের আশুগঞ্জ থেকে বুধন্তি পর্যন্ত (প্রায় ৩৪ কিলোমিটার) অংশটি বন্ধ করে দেবেন। এই হুমকি তার ভোটারদের কাছে সরাসরি পৌঁছানোর একটি কৌশল হিসেবে দেখা যায়।
আবেদনকালে ফারহানা তার অসুস্থ মায়ের কথা উল্লেখ করে, “আমি আমার মাকে ঢাকায় আল্লাহর হাওলা করে রেখে এসেছি; যদি আপনি আমাকে ফিরিয়ে দেন, তবে আর কোনো জায়গা নেই।” তিনি ভোটারদেরকে জানিয়ে দেন, “আগামী ১২ তারিখ পর্যন্ত আপনারা আমার ভোটের আমানতকারী হবেন; ভোটের জিম্মা আমি আপনার হাতে দিলাম।” এভাবে তিনি ভোটারদের সঙ্গে আবেগিক বন্ধন গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি জোটের অংশীদার জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশও উপস্থিত ছিল। যদিও সমাবেশে কোনো বিরোধী দলের সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে ফারহানার অভিযোগ ও প্রতিশ্রুতিগুলি স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিদ্যায় নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
এই অভিযোগের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে, নির্বাচনী কমিশন ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি করা হয়েছে, তবে এখনো পর্যন্ত কোনো সরকারি মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
যদি ফারহানার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বৈধতা ও ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, তার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও হাইওয়ে বন্ধের হুমকি স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বাড়াতে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই ঘটনাটি নির্বাচনী সময়ে ভোটারদের নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং প্রার্থীর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, এবং আগামী সপ্তাহে কীভাবে এগোবে তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।



