পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার প্রথম রাউন্ডে কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে এনআইডি ব্লক করা এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিককে বাংলাদেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হবে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের ইসির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সামনে জানায়।
ইসির প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জরুরি ব্রিফিংয়ে জোর দিয়ে বলেন, বিদেশে বসে থাকা প্রবাসী ভোটারদের জন্য চালু করা এই পদ্ধতিতে হীন স্বার্থের জন্য কোনো ভোট জালিয়াতি সহ্য করা হবে না।
অননুমোদিত ভোট সংগ্রহের চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এনআইডি অবিলম্বে ব্লক করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে তার বসবাসের দেশ থেকে বাংলাদেশে ফেরত আনা হবে।
এটি পোস্টাল ব্যালটের প্রথম ব্যবহার, যেখানে প্রবাসী ভোটারদের ভোটের সুযোগ দেওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে ইসির কর্মকর্তারা আগে থেকেই দূতাবাস ও মিশন প্রধানদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মিটিং করে তথ্য শেয়ার করে থাকেন।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয় যে, মোট ৭,৬৭,০৮৪টি ব্যালট পেপার বাংলাদেশ পোস্ট অফিসের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই সংখ্যা পূর্বে ঘোষিত পরিকল্পনার চেয়ে সামান্য বেশি, যা প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি ও বিতরণে উচ্চ মাত্রার সতর্কতা নির্দেশ করে।
এগুলোর মধ্যে ৫৯,৫৮৪টি এখনো ট্রানজিটে রয়েছে, আর ৭,০৭,৫০০টি ইতিমধ্যে লক্ষ্য দেশের পোস্ট অফিসে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যান ইসির সিস্টেমে কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে আপডেট হয়।
কিউআর কোডের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১,৪০,৮৭৩টি ব্যালট ভোটারদের হাতে পৌঁছেছে। এই সংখ্যা প্রাথমিক লক্ষ্যকে ছাড়িয়ে গেছে, তবে এখনও কিছু ব্যালট অনুপস্থিত।
অনুপস্থিত ব্যালটের সংখ্যা ৪,৫২১টি, যা মূলত ঠিকানার ভুল বা অপ্রতুল তথ্যের কারণে ডেলিভারিতে বাধা পেয়েছে। অধিকাংশ অনডেলিভার্ড ব্যালট মালয়েশিয়া থেকে এসেছে, দ্বিতীয় স্থানে ইতালি রয়েছে।
ইসির কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, একাধিক ভোটার একই ঠিকানায় নিবন্ধিত থাকায় (একটি ঠিকানায় সর্বোচ্চ ১০০ ভোটার) ব্যালটের বাল্ক ডিস্ট্রিবিউশনে জটিলতা দেখা দিয়েছে। তবে প্রতিটি মিশনকে এই বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে সিআইডি (সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা জানিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে অবৈধভাবে ভোট সংগ্রহের চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।
ইসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় লাইভ ভেরিফিকেশন পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা নিয়ে আলোচনা চলছে। এই ব্যবস্থা ভোটারদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি জালিয়াতি রোধে অতিরিক্ত সুরক্ষা প্রদান করবে।
ডিজিটাল সাক্ষরতা ও প্রবাসীদের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে, ইসি ৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের প্রবাসী ভোটারদের চাহিদা পূরণে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল ভোটারদের সহজে ও নিরাপদে ভোট দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা।
কমিটি জোর দিয়ে বলেছে, পোস্টাল ব্যালটের এই প্রথম রাউন্ডে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন, যাতে কোনো একক ব্যক্তির হীন স্বার্থে পুরো প্রক্রিয়া নষ্ট না হয়।
ইসির এই সতর্কতা ও কঠোর ব্যবস্থা প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, যা দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বাড়াবে।



