27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিকাকরাইলে ১১‑দলীয় ঐক্যের চূড়ান্ত ঘোষণা, মুক্তিযোদ্ধা‑জুলাই‑যোদ্ধার মিলন

কাকরাইলে ১১‑দলীয় ঐক্যের চূড়ান্ত ঘোষণা, মুক্তিযোদ্ধা‑জুলাই‑যোদ্ধার মিলন

ঢাকা, কাকরাইলের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের চূড়ান্ত ঘোষণা ও পার্টি নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমদের প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। ইন্সটিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে ঐক্যের লক্ষ্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থার সমালোচনা করা হয়।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বীর বিক্রম উপাধি প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, উল্লেখ করেন যে ১১‑দলীয় ঐক্যে মুক্তিযোদ্ধা ও ২৪ জুলাইয়ের যোদ্ধা একত্রিত হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘটেছে। তিনি বলেন, এই মিলন অন্য কোনো জায়গায় ঘটেনি এবং এখন জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—ভারতের প্রভাবের অধীনে থাকবে নাকি নিজেরাই দেশের সেবায় নিবেদিত হবে।

অলি আহমদ দেশের শাসনব্যবস্থা নিয়ে স্পষ্ট প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। তিনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি শাসনের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে, ন্যায়ের শাসন, সুশাসন এবং দুর্নীতিমুক্ত সরকার গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণকে এমন শাসন দরকার যা চাঁদাবাজমুক্ত এবং স্বচ্ছ।

প্রেস কনফারেন্সে অলি আহমদ নির্বাচন কমিশনের বর্তমান অবস্থার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে নির্বাচনের পরিবেশ ও সমান সুযোগের অভাব রয়েছে। যদি এই পরিস্থিতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে না সৃষ্টি হয়, তবে পূর্বের প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনারদের জেলে যাওয়ার ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতে পারে, বর্তমান কমিশনকেও সতর্ক করেন।

কমিশনের কাজের প্রতি অলি আহমদের অসন্তোষের মূল কারণ হল, তিনি বলেন, অনেক আবেদন সঠিকভাবে পর্যালোচনা না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের উচিত সকল প্রার্থীর বৈধতা যাচাই করে ন্যায়সঙ্গত রায় প্রদান করা, যাতে জনগণ সত্যিকারের ন্যায়বিচার পায়।

অলি আহমদ আরও উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে অন্যের পেছনে না থেকে, নিজেরা বাংলাদেশের জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, “তাঁবেদারি করবেন জনগণের, দেশের মঙ্গলের জন্য যা সঠিক তা করুন।” এভাবে তিনি ঐক্যের মধ্যে স্বতন্ত্রতা ও স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

প্রেস কনফারেন্সের সূচনা বক্তব্য দিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তার পরবর্তী মূল বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামের আমির শফিকুর রহমান অংশ নেন, যেখানে তিনি ঐক্যের রাজনৈতিক দিক ও সামাজিক লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করেন।

এছাড়া ন্যাশনাল পার্টি (এনসিপি) এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদেরও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। তারা সকলেই ১১‑দলীয় ঐক্যের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ও নির্বাচনী কৌশল সম্পর্কে মত প্রকাশ করেন।

এই সমাবেশে উল্লেখ করা হয় যে, ১১‑দলীয় ঐক্য থেকে সাতটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে কর্নেল অলি আহমদের দল। তিনি বলেন, এই সাতটি আসনই তাদের মূল লক্ষ্য, যেখানে তারা জনগণের সেবায় নিবেদিত হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।

অলি আহমদ সমাবেশে উল্লেখ করেন, “দিল্লির দাসত্ব থেকে আমরা বের হতে চাই।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ঐক্যের শক্তি ব্যবহার করা হবে। এভাবে তিনি জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন।

প্রেস কনফারেন্সের শেষে অলি আহমদ আবারও জনগণকে আহ্বান জানান, ন্যায়ের শাসন, সুশাসন এবং দুর্নীতিমুক্ত সরকার গড়ে তোলার জন্য একসাথে কাজ করতে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এখনো মানুষ ন্যায়বিচার পাচ্ছে না; তাই আমাদের সবার দায়িত্ব হল এই ঘাটতি দূর করা।”

এই সমাবেশের মাধ্যমে ১১‑দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয় এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারিত হয়। অলি আহমদ ও অন্যান্য নেতাদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ঐক্যকে ভিত্তি করে দেশের স্বায়ত্তশাসন, দুর্নীতি মুক্ত শাসন এবং জনগণের সেবা নিশ্চিত করা হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments