ঢাকা, কাকরাইলে বৃহস্পতিবার রাতের সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ১১টি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী জোটকে দেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন। জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দশটি দল একত্রে ২৫৩টি আসনের জন্য সমন্বিতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে; এর মধ্যে এনসিপি ৩০টি আসনে প্রার্থী দায়ের করবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও কিছু অন্যান্য দলের আসন ভাগের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
সম্মেলনটি ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। নাহিদ ইসলাম বলেন, আজকের সমাবেশটি সংস্কার, স্বাধীনতা ও দুর্নীতিবিরোধী আদর্শে একত্রিত বিভিন্ন দলের সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে একসঙ্গে অংশগ্রহণের সংকল্পকে দৃঢ় করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে গড়ে ওঠা স্বপ্ন—মুক্তিযুদ্ধের সমতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার—এই জোটের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।
এনসিপি এই জোটের আওতায় কোনো আসনে নিজস্ব প্রার্থী রাখবে না; ঘোষণার পর থেকে সকল প্রার্থীকে ঐক্যবদ্ধ জোটের প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য করা হবে। নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের ঐতিহাসিক লড়াইয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা হবে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এরপর জামায়াতে ইসলামী আমির শফিকুর রহমান মূল বক্তব্য রাখেন। লেডি ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এবং খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদেরও তাদের মতামত প্রকাশ করেন। ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ সম্মেলনের পরিচালনা করেন।
সম্মেলনে এনসিপির মুখপাত্র ও প্রাক্তন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া উপস্থিত ছিলেন, পাশাপাশি ‘আমার বাংলাদেশ’ (এবি) দলের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। সকল অংশগ্রহণকারী একসঙ্গে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করার লক্ষ্যে ঐক্যের বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই জোটের ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যৎ নির্বাচনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করছেন। ২৫৩টি আসনের মধ্যে এনসিপি ৩০টি দখল করবে বলে জানানো হয়েছে; বাকি আসনগুলো জোটের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ভাগ করা হবে। যদিও কিছু দলের আসন ভাগের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে জোটের সমন্বিত কৌশল ও ঐক্যবদ্ধ প্রচারাভিযানকে শক্তিশালী করে তুলতে সকল দল একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
এই ঐক্যবদ্ধ জোটের গঠন দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিপ্রকৃতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষত, নির্বাচনী সমঝোতার মাধ্যমে ছোট ও মাঝারি পার্টিগুলোর স্বরকে বৃহত্তর মঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে, জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও নীতি-নির্ধারণে পারস্পরিক সমঝোতা বজায় রাখার জন্য ধারাবাহিক আলোচনার প্রয়োজনীয়তা উন্মোচিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দেশের স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের আদর্শকে পুনরায় সজীব করে তুলবে এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছা ও স্বার্থকে সর্বোচ্চভাবে প্রতিফলিত করবে।



