ডেনমার্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত আলোচনার পর কোনো সমঝোতা না হওয়ায়, ইউরোপীয় দেশগুলো গ্রিনল্যান্ডে সীমিত সংখ্যক সামরিক কর্মী পাঠায়। এই পদক্ষেপটি ডেনমার্কের বৃহত্তর ও স্থায়ী ন্যাটো উপস্থিতি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে, যা ২০২৬ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন লক্ষ্য।
ডেনমার্কের যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের মতো ইউরোপীয় অংশীদাররা ছোট দল পাঠিয়ে সামরিক অনুশীলনের প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করবে। যদিও সংখ্যায় সীমিত, এই উপস্থিতি ডেনমার্কের নিরাপত্তা পরিকল্পনাকে সমর্থন করার সংকেত দেয়।
বৃহস্পতিবারের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিরা গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধে আটকে যায়। বৈঠকের পর, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসিত ভূখণ্ড রক্ষা করতে সক্ষম নয়, যদি রাশিয়া বা চীন দখল করার চেষ্টা করে।
ট্রাম্পের মতে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং খনিজ সমৃদ্ধ এই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য, এবং তিনি দ্বীপটি দখল করার সম্ভাবনা বাদ দেননি। তিনি বলছেন, প্রয়োজনে জোরপূর্বক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে দ্বীপটি বিক্রয়ের জন্য নয় এবং কোনো জোরপূর্বক হুমকি অযৌক্তিক। উভয় সরকার দ্বীপের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অটল থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ট্রোয়েলস লুন্ড পাউলসেন কপেনহেগেনে সাংবাদিকদের সামনে জানান যে, গ্রিনল্যান্ডে ন্যাটোর বিস্তৃত উপস্থিতির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও নির্ধারিত হয়নি। তবে ২০২৬ সালের মধ্যে বৃহত্তর ও স্থায়ী উপস্থিতি পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা আর্কটিকের নিরাপত্তা শুধুমাত্র ডেনমার্কের নয়, পুরো ন্যাটোর দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান দেশগুলো ডেনমার্কের অবস্থানকে সমর্থন করে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সামরিক দখলকে ন্যাটোর ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করার সম্ভাবনা হিসেবে সতর্ক করেছে। এই সতর্কতা ন্যাটোর ঐক্য ও আর্কটিকের নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বৃহস্পতিবারের আগে, গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয়ে দ্বীপের চারপাশে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর কাজ শুরু করে। এই পদক্ষেপটি আর্কটিকের কৌশলগত গুরুত্বকে বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে।
ডেনমার্কের যৌথ আর্কটিক কমান্ডে বর্তমানে প্রায় ১৫০ জন সামরিক ও নাগরিক কর্মী কাজ করছেন, যারা দ্বীপের নিরাপত্তা ও জরুরি সেবার দায়িত্বে নিযুক্ত। এই সংখ্যা ভবিষ্যতে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ—জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডস—এই বছর শেষের দিকে বৃহত্তর সামরিক অনুশীলনের প্রস্তুতির জন্য তাদের কর্মী পাঠাবে। এই দলগুলো প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করবে।
নুকের ব্যবসায়ী মাডস পিটারসেনের মতে, গ্রিনল্যান্ডে অতিরিক্ত সৈন্যের উপস্থিতি অস্বাভাবিক হবে। তিনি আশাবাদী যে এই নতুন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে না, এবং ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।
রাশিয়া বৃহস্পতিবার গ্রিনল্যান্ডের সামরিক গতিবিধি নিয়ে মন্তব্য করে, তবে তার বক্তব্যের বিশদ প্রকাশিত হয়নি। রাশিয়ার এই মন্তব্য আর্কটিকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।
পরবর্তী সময়ে, ডেনমার্ক ও ন্যাটো কীভাবে বৃহত্তর উপস্থিতি বাস্তবায়ন করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দাবির প্রতি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা আর্কটিকের ভূ-রাজনৈতিক সমতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই প্রক্রিয়ায় ইউরোপীয় মিত্রদের সমর্থন ও রাশিয়া-চীনের প্রতিক্রিয়া মূল চাবিকাঠি হবে।



