ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় জামায়াত‑ইসলামীর স্থানীয় নেতা আলমগীর শেখ (৩৬)কে রাত ৯টার দিকে হাতুড়ি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয়। আক্রমণের ফলে তিনি গুরুতর শারীরিক ক্ষতভোগ করেন এবং তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা সেবা নিতে বাধ্য হন। ঘটনাস্থল ছিল তালমা ইউনিয়নের কদমতলী সেতু ও বাজার সংলগ্ন এলাকা।
আলমগীর শেখ কদমতলী গ্রামের মৃত হালিম শেখের পুত্র এবং তালমা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াত সভাপতি। তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর‑২ (সালথা‑নগরকান্দা) আসনের ১১ দলীয় জামায়াত জোটের প্রার্থীর তালমা ইউনিয়ন নির্বাচনী কেন্দ্র কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে কাজ করছিলেন। তার ভাই রিয়াদুল ইসলাম ঘটনাটির পর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
আক্রমণটি ঘটার সময় আলমগীর শেখ বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে কদমতলী সেতুর কাছে রাশেদ মোল্লা ও মিলন শেখের দ্বারা বাধা দেওয়া হয়। তারা তাকে অন্য প্রতীকে ভোট দিতে বললেও তিনি জামায়াতের প্রার্থীকে সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই প্রত্যাখ্যানের পর দুজনই হাতুড়ি দিয়ে তাকে আঘাত করেন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।
আক্রমণের মুহূর্তে আলমগীর শেখ গম্ভীরভাবে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে যান। স্থানীয় মানুষ তাকে উদ্ধার করে প্রায় রাত ১১টায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আলমগীর শেখ জানান যে তিনি জামায়াত‑ইসলামীর নেতা এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি ফরিদপুর‑২ আসনের জোটের প্রার্থী শাহ আকরাম আলীর সমর্থক হিসেবে কাজ করছেন। তার মতে, আক্রমণের সময় তাকে বাধা দেওয়া এবং ভোটের দিকনির্দেশনা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছিল।
আলমগীরের ভাই রিয়াদুল ইসলাম থানায় লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন যে হামলাকারীরা পূর্ব পরিকল্পনা করে আলমগীরের ওপর হিংসাত্মক আক্রমণ চালিয়েছে এবং তার দেহের বিভিন্ন অংশে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। অভিযোগে অভিযুক্তদের নাম রাশেদ মোল্লা ও মিলন শেখ উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র এবং জামায়াত নেতারা দাবি করেন যে রাশেদ মোল্লা ও মিলন শেখ পূর্বে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সমর্থক ছিলেন এবং বর্তমানে দল বদল করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছেন। তারা এই আক্রমণকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হিসেবে দেখছেন।
ঘটনার পর রাতেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত আলমগীরকে দেখতে ফরিদপুর‑২ আসনের জামায়াত‑সমর্থিত জোটের প্রার্থী শাহ আকরাম আলী উপস্থিত হন। তিনি ঘটনাটির শোক প্রকাশ করে বলেন যে আক্রমণটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে এবং দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নগরকান্দা থানার তদন্তকারী অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আক্রমণের প্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন। হস্তক্ষেপকারী দুই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।
পুলিশের মতে, আক্রমণের সময় ব্যবহার করা ধারালো অস্ত্র এবং হাতুড়ি থেকে প্রাপ্ত চিহ্নগুলো তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া, স্থানীয় রেকর্ড এবং সাক্ষ্য সংগ্রহের মাধ্যমে সন্দেহভাজনের পূর্ব অপরাধমূলক কার্যকলাপের তথ্যও যাচাই করা হবে।
আলমগীরের চিকিৎসা অবস্থা সম্পর্কে হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে তিনি শিরা-শিরা রক্তক্ষরণ এবং মাথা ও দেহের বিভিন্ন অংশে কাটার ক্ষতভোগ করেছেন, তবে জরুরি শল্যচিকিৎসা এবং রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে তার জীবনরক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বর্তমানে তীব্র পর্যবেক্ষণে আছেন।
আইনি দিক থেকে, রিয়াদুল ইসলামের দায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় আদালতে প্রাথমিক শুনানি নির্ধারিত হয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষের উপস্থিতি নিশ্চিত করে মামলার অগ্রগতি নির্ধারণ করবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফরিদপুরের নির্বাচনী পরিবেশে এই ধরনের হিংসা বৃদ্ধি পেতে পারে, তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই ঘটনার পর দ্রুত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই আক্রমণ এবং তার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করবে। সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আইনের আওতায় ন্যায়সঙ্গত সমাধান প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



