সনি পিকচার্স এন্টারটেইনমেন্ট এবং নেটফ্লিক্স আজ একটি বহু-বছরের গ্লোবাল পে‑১ লাইসেন্সিং চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার মাধ্যমে সনি’র ফিচার ফিল্মগুলো থিয়েটার ও হোম এন্টারটেইনমেন্ট উইন্ডো শেষ হওয়ার পর নেটফ্লিক্সে বিশ্বব্যাপী স্ট্রিম হবে। এই চুক্তি ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হওয়া প্রথম ধাপের সম্প্রসারণ, যেখানে সনি ফিল্মগুলো থিয়েটার ও হোম রিলিজের পর নেটফ্লিক্সে প্রবেশ করত।
নতুন চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান চুক্তি শেষ হওয়ার পর ২০২৭ সালের শুরুর দিকে নতুন পে‑১ চুক্তি কার্যকর হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে চুক্তির বাস্তবায়ন ধীরে ধীরে হবে; এই বছর শেষের দিকে পৃথক অঞ্চলগুলোর অধিকার মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফিল্মগুলো নেটফ্লিক্সে যোগ হবে। পুরো গ্লোবাল লাইসেন্সিং অধিকার ২০২৯ সালের শুরুর দিকে নেটফ্লিক্সের হাতে থাকবে।
চুক্তির অংশ হিসেবে নেটফ্লিক্সকে সনি’র নির্বাচিত ফিচার ফিল্ম ও টেলিভিশন লাইব্রেরির কিছু শিরোনামও লাইসেন্স করা হবে। সনি’র গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন এক্সিকিউটিভ ভিপি পল লিটম্যানের মতে, এই চুক্তি দু’পক্ষের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে এবং সনি’র থিয়েট্রিক্যাল রিলিজের আকর্ষণকে নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ধরণের চুক্তি সনি’র স্বাধীনতা ও সৃজনশীল অংশীদারদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করে।
অতীতে যুক্তরাষ্ট্রে নেটফ্লিক্সে স্ট্রিম হওয়া সনি’র শিরোনামগুলোর মধ্যে রয়েছে “ইট এন্ডস উইথ আস”, “এনি ওয়ান বাট ইউ” এবং “ভেনম: দ্য লাস্ট ড্যান্স”। নতুন চুক্তির অধীনে আসন্ন স্পাইডার‑ম্যান সিরিজ “ব্র্যান্ড নিউ ডে”ও নেটফ্লিক্সে যুক্ত হবে। এছাড়া, সনি’র ভবিষ্যৎ রিলিজগুলোও থিয়েটার ও হোম এন্টারটেইনমেন্টের পর নেটফ্লিক্সে প্রবেশের সুযোগ পাবে, যা গ্লোবাল দর্শকদের জন্য বিস্তৃত বিকল্প সরবরাহ করবে।
সনি এবং নেটফ্লিক্সের এই দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য হল উভয় কোম্পানির কন্টেন্টকে সর্বোচ্চ দর্শকসংখ্যায় পৌঁছে দেওয়া, একই সঙ্গে উভয়ের স্বতন্ত্র সৃজনশীলতা ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করা। চুক্তি শেষ হওয়ার সময়সীমা ও ধাপে ধাপে রোল‑আউটের পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত, ফলে শিল্পের অন্যান্য স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের জন্যও একটি মানদণ্ড স্থাপন করা হয়েছে।
এই চুক্তি সনি’র জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি নেটফ্লিক্সের জন্যও উচ্চমানের হোলি-ফিল্ম কন্টেন্টের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে। উভয় পক্ষের দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও নতুন শিরোনাম ও সিরিজকে বৈশ্বিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে, যা বিনোদন শিল্পের বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



