28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইথিওপিয়া পুলিশ ৫৬,০০০ রাউন্ড গোলাবারুদ আটক, এর উৎসের দাবি ইরিত্রিয়া

ইথিওপিয়া পুলিশ ৫৬,০০০ রাউন্ড গোলাবারুদ আটক, এর উৎসের দাবি ইরিত্রিয়া

ইথিওপিয়ার আমহারা অঞ্চলে পুলিশ ৫৬,০০০ রাউন্ডের বেশি গোলাবারুদ আটক করেছে এবং দুইজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। এই পদক্ষেপটি ফানো নামে পরিচিত সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সমর্থনে পাঠানো হওয়ার সন্দেহে নেওয়া হয়েছে। সরকার দাবি করেছে যে এই অস্ত্র সরবরাহ ইরিত্রিয়ার শাবিয়া সরকার থেকে এসেছে।

অধিকাংশ গোলাবারুদ স্থানীয় বাজারে বিক্রি হওয়ার পরিবর্তে সরাসরি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে পৌঁছানোর উদ্দেশ্য ছিল বলে বলা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত দুজন সন্দেহভাজনকে পুলিশ “লাল হাতে ধরা” অবস্থায় আটক করেছে এবং তাদের থেকে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত করা হয়েছে যে গোলাবারুদটি ইরিত্রিয়ার শাবিয়া পার্টি, অর্থাৎ সরকারী দল, থেকে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে ইথিওপিয়ার নিরাপত্তা বিভাগ ফেসবুকের মাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলেছে, “প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে এই গোলাবারুদ শাবিয়া সরকার থেকে পাঠানো হয়েছে”।

ইরিত্রিয়ার তথ্য মন্ত্রী ইয়েমানে গেব্রেমেস্কেল এই দাবিকে কঠোরভাবে অস্বীকার করে, ইথিওপিয়ার প্রোস্পেরিটি পার্টি (PP) কে যুদ্ধের পূর্বশর্ত তৈরি করার জন্য মিথ্যা ফ্ল্যাগ ব্যবহার করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “ইথিওপিয়া এই ধরনের অভিযোগ দিয়ে নিজের আক্রমণকে ন্যায়সঙ্গত করার চেষ্টা করছে”।

দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাস দীর্ঘ এবং জটিল। ১৯৯৩ সালে ইরিত্রিয়া স্বাধীনতা অর্জন করে, ফলে ইথিওপিয়া ভূমি হারায় এবং ইরিত্রিয়া ১,৩৫০ কিলোমিটার লাল সাগরের তটরেখা পায়। তবে ১৯৯৮-২০০০ সালের সীমান্তযুদ্ধে দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে ১০ লক্ষের বেশি প্রাণ হারায়।

২০১৮ সালে উভয় দেশ ঐতিহাসিক স্বাক্ষরিত চুক্তি করে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে অগ্রসর হয়। তিগ্রে সংঘাতে ইরিত্রিয়ার সৈন্য ইথিওপিয়ার সরকারের পাশে লড়াই করেছিল, যা সাময়িকভাবে পারস্পরিক বিশ্বাস বাড়িয়ে তুলেছিল।

কিন্তু ২০২২ সালের নভেম্বরের শান্তি চুক্তিতে ইরিত্রিয়াকে বাদ দেওয়া হয়, ফলে দুই দেশের মধ্যে আবার উত্তেজনা বাড়ে। লাল সাগরের নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্যিক রুটের ওপর প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন কূটনৈতিক সংঘর্ষের সূত্রপাত করে।

বর্তমানে ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরে ফানো গোষ্ঠীর দ্বারা পরিচালিত বিদ্রোহী কার্যক্রম তীব্রতর হয়েছে। সরকার এই গোষ্ঠীর অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে এবং নিরাপত্তা পুনঃস্থাপন করতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

অধিকাংশ বিশ্লেষক মনে করেন, গোলাবারুদের এই ধরা-ধরি উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন মোড় নির্দেশ করে। ভবিষ্যতে কোনো সরাসরি সামরিক সংঘাত এড়াতে দু’দেশের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন বাড়বে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments