নতুন বছরের আগের রাতে সুইজারল্যান্ডের ক্র্যান্স মন্টানা শহরের লে কনস্টেলেশন বার-এ অগ্নিকাণ্ডে ৪০ জনের মৃত্যু এবং ১১৬ জনের আঘাতের ঘটনা ঘটেছে। ২৪ বছর বয়সী সায়ান প্যানিনে নামের কর্মচারীও এই আগুনে প্রাণ হারিয়েেছেন। বারটির ফরাসি মালিক জ্যাক এবং জেসিকা মোরেটি নিরাপত্তা অবহেলার অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে।
আগুনের সূত্রপাত হয় বারটির ছাদের উপরে, যেখানে একটি স্পার্কলার সংযুক্ত শ্যাম্পেনের বোতল জ্বলে উঠেছিল। ভিডিওতে দেখা যায় প্যানিনে হেলমেট পরা অবস্থায় সেই বোতলটি হাতে ধরে ছিলেন। ছাদ জ্বলে উঠার সঙ্গে সঙ্গে অগ্নি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে পুরো বারটি ধ্বংসের মুখে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডের পরপরই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বারটির মালিকদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার (manslaughter) অভিযোগ, শারীরিক ক্ষতি (bodily harm) এবং অগ্নিকাণ্ডের (arson) অপরাধে দায়ের করেছে। তদন্তকারীরা উল্লেখ করছেন যে বারটির কাঠামোতে ব্যবহৃত উপকরণ এবং নিরাপত্তা পরিদর্শনের অভাবই বড় ক্ষতির মূল কারণ।
প্যানিনের পরিবারে এই ক্ষতি নিয়ে গভীর শোক প্রকাশ পেয়েছে। প্যানিনের পরিবারের আইনজীবী সোপি হ্যাননি জানান, প্যানিনে অগ্নিকাণ্ডের রাতে টেবিল সার্ভ করার দায়িত্বে ছিলেন না, তবে উচ্চ চাহিদা মোকাবিলার জন্য তাকে নিচের অংশে কাজ করতে বলা হয়। তিনি বলেন, প্যানিনে শুধুমাত্র নির্দেশ অনুসরণ করে কাজ করেছেন এবং কোনো নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ পাননি।
হ্যাননি আরও উল্লেখ করেন, যদি নিরাপত্তা মানদণ্ড, বিশেষ করে ব্যবহৃত উপকরণ সংক্রান্ত, সঠিকভাবে অনুসরণ করা হতো এবং নিয়মিত পরিদর্শন করা হতো, তবে এই ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হতো। তিনি প্যানিনের মৃত্যুকে “নিরাপত্তা মানদণ্ডের অবহেলার সরাসরি ফলাফল” বলে উল্লেখ করে, তাকে নিঃসন্দেহে শিকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
প্যানিনের কাজের পরিবেশ নিয়ে তিনি আরও বলেন, প্যানিনে তার কর্মস্থলের শর্তাবলী নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন এবং কর্মস্থলে সহানুভূতির অভাবে তিনি হতবাক ছিলেন। তার পরিবার জানায়, তারা তাদের মেয়ে, বোন এবং প্রিয়জনকে হারিয়েছেন; একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎধারী ব্যক্তি তাদের থেকে চলে গেছেন।
আইনি দিক থেকে, সুইস আদালত বুধবার জেসিকা মোরেটির উপর ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা প্রি-ট্রায়াল ডিটেনশনের বিকল্প হিসেবে নেওয়া হয়েছে। আদালত এই সিদ্ধান্তটি নেওয়ার কারণ হিসেবে প্রোসিকিউটরের “ফ্লাইটের ঝুঁকি” উল্লেখ করেছে। জ্যাক মোরেটির বিরুদ্ধে একই সময়ে কোনো ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি, তবে তার বিরুদ্ধে একই অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
বারের মালিকদের আইনজীবী এখনো কোনো মন্তব্য করেননি, তবে মিডিয়া সংস্থা বিবিসি তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। তদন্ত চলমান থাকায়, ভবিষ্যতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হবে কিনা, তা স্পষ্ট হবে।
এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পর, সুইস কর্তৃপক্ষ বার-বার নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনঃমূল্যায়ন এবং কঠোর পরিদর্শনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণকে বাধ্যতামূলক করে তোলার প্রস্তাবও বিবেচনা করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের শিকারদের পরিবার এবং বেঁচে থাকা কর্মীদের জন্য সহায়তা ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা গৃহীত হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ বা আইনি দায়িত্ব সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।
এই ঘটনাটি সুইজারল্যান্ডের বার শিল্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করেছে।



