ডেটা ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ১৫ জানুয়ারি রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে অনুষ্ঠিত ২৫তম আইসিএমএবি কনভোকেশন‑২০২৬-এ প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন। তিনি সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত আর্থিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে তিনি অডিট প্রতিবেদনের মূল উদ্দেশ্যকে হিসাবরক্ষণ ও সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্য সুপারিশ প্রদান হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এসব সুপারিশের মাধ্যমে আর্থিক নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করা, সরকারি তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির সুযোগ হ্রাস করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আর্থিক ব্যবস্থার তাগিদকে তিনি সময়ের দাবি হিসেবে উপস্থাপন করেন। এ ধরনের কাঠামো গড়ে উঠলে বাজেটের কার্যকারিতা বাড়বে, বিনিয়োগকারীর আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টস (আইএফএসি) এর প্রেসিডেন্ট জ্যাঁ বুকুয়া অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে অংশ নেন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থার উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত নীতি প্রয়োগের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষে রিজওয়ানা হাসান প্রায় ৩০০ জন ফেলো ও অ্যাসোসিয়েট সদস্যকে সনদ প্রদান করেন, যারা ইনস্টিটিউটের কঠোর প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। এই সনদপ্রদানকে তিনি দেশের হিসাবরক্ষণ পেশার মানোন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
আইসিএমএবি সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সমাবর্তনটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন সভাপতি, কাউন্সিল সদস্য এবং সরকারি-কর্পোরেট খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন, যা ইভেন্টের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা বলেন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত আর্থিক নীতি বাস্তবায়ন করলে সরকারি প্রকল্পের খরচে অপ্রয়োজনীয় বাড়তি ব্যয় কমে যাবে এবং বাজারে স্বচ্ছতার চাহিদা পূরণ হবে। ফলে বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) এবং বন্ড বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা বাড়বে, যা দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ভবিষ্যতে অডিট মানদণ্ডের কঠোরতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল হিসাবরক্ষণ সিস্টেমের গ্রহণ এবং স্বতন্ত্র তত্ত্বাবধান সংস্থার শক্তিশালীকরণ প্রত্যাশিত। তবে এই রূপান্তরকে বাধা দিতে পারে রাজনৈতিক স্বার্থের হস্তক্ষেপ এবং প্রাতিষ্ঠানিক অক্ষমতা, যা নীতির ধারাবাহিকতা ও কার্যকারিতাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, রিজওয়ানা হাসানের আহ্বান এবং আইসিএমএবি কনভোকেশনের এই সমাবর্তন দেশের আর্থিক শাসনব্যবস্থার সংস্কারকে ত্বরান্বিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত আর্থিক কাঠামো গড়ে তুলতে সরকার, বেসরকারি খাত এবং পেশাদার সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।



