হারমনি করিন, যিনি ‘Kids’ ও ‘Spring Breakers’ সহ বেশ কিছু বিতর্কিত চলচ্চিত্রের স্রষ্টা, তার মিয়ামি ভিত্তিক সৃজনশীল স্টুডিও এডজিএলআরডি (উচ্চারণ ‘এডজেলর্ড’) থেকে নতুন একটি ডিজিটাল কমিক ‘ক্যাচ’ প্রকাশ করেছেন। এই কাজটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ওয়েবটুন প্ল্যাটফর্ম WEBTOON-এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে এবং অ্যানিমে-অনুপ্রাণিত শৈলীর সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি মিশ্রিত করে তৈরি।
করিনের ক্যারিয়ারকে ‘শৈশবের দুষ্টু’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তবে তার কাজের পরিধি চলচ্চিত্রের সীমা ছাড়িয়ে গেম, ফ্যাশন এবং জেনারেটিভ টেকনোলজিতে বিস্তৃত। ‘Kids’ ও ‘Spring Breakers’ এর মতো চলচ্চিত্রে তিনি তরুণদের বিদ্রোহী মনোভাব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তুলে ধরেছেন, আর এখন ‘ক্যাচ’ এর মাধ্যমে তিনি ডিজিটাল কমিকের জগতে প্রবেশ করছেন।
‘ক্যাচ’ একটি তরুণ সমুদ্রপ্রেমীর গল্প বলে, যিনি সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা একটি গোপন সমাজের সঙ্গে পরিচিত হন। এই সমাজটি গভীর সমুদ্রের অন্ধকার থেকে উঠে আসা বিশাল দানব—লেভিয়াথান—কে শিকারের লক্ষ্য রাখে। গল্পের গতি ও পরিবেশ সমুদ্রের রহস্যময়তা ও বিপদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, যা পাঠকদেরকে অদ্ভুত জগতে ডুবিয়ে দেয়।
এই প্রকল্পের চিত্রাঙ্কন কাজটি লরা সাকুরাকি, যিনি ‘Million Dollar Bride’ এর জন্য পরিচিত, সম্পন্ন করেছেন। রঙের দায়িত্বে ছিলেন লিং চেন, আর ডেলেন সেউ প্রলগে অংশগ্রহণ করে গল্পের সূচনা নির্ধারণ করেছেন। তাদের সমন্বিত কাজের ফলে ‘ক্যাচ’ এর ভিজ্যুয়াল স্টাইল আধুনিক অ্যানিমে ও জাপানি কমিকের স্বাদ বহন করে, তবে এডজিএলআরডি’র স্বকীয় স্পর্শ যোগ করে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে ‘ক্যাচ’ এডজিএলআরডি’র মিশ্র-মিডিয়া উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যবহার করেছে। সিএজি (কম্পিউটার জেনারেটেড ইমেজ) টুল, অ্যানিমেটেড প্যানেল এবং নির্দিষ্ট অধ্যায়ে সঙ্গীতের ইন্টারেক্টিভ উপাদান যুক্ত করা হয়েছে, যা পাঠকের অভিজ্ঞতাকে আরও গতিশীল করে তুলেছে। এই পদ্ধতি ঐতিহ্যবাহী কমিকের সীমা ভেঙে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নতুন ধরনের গল্প বলার সুযোগ তৈরি করেছে।
WEBTOON, যা বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি ব্যবহারকারীকে সেবা প্রদান করে, ‘ক্যাচ’ কে তার সিরিজের তালিকায় যুক্ত করেছে। প্ল্যাটফর্মের আন্তর্জাতিক পৌঁছানোর মাধ্যমে করিনের কাজটি এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকায় সমানভাবে উপভোগ করা যাবে, যা তার সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও বিস্তৃত দর্শকের কাছে পৌঁছে দেবে।
এডজিএলআরডি ২০২২ সালে মিয়ামিতে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং চলচ্চিত্র, গেমিং, ফ্যাশন ও জেনারেটিভ টেকনোলজি সহ বিভিন্ন শিল্পের সংযোগস্থলে কাজ করে। স্টুডিওটি তার নামের উচ্চারণ ‘এডজেলর্ড’ হিসেবে পরিচিত, যা আধুনিক ডিজিটাল সংস্কৃতির প্রান্তিকতা ও সাহসিকতাকে প্রতিফলিত করে। ‘ক্যাচ’ এই বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গির একটি নতুন প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্টুডিওর প্রথম বড় সাফল্য ছিল ২০২৩ সালের ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘AGGRO DR1FT’ উপস্থাপন। এই ৮০ মিনিটের কাজটি ট্র্যাভিস স্কটের সঙ্গে সহযোগিতায় তৈরি হয় এবং সম্পূর্ণ থার্মাল লেন্সের মাধ্যমে শুট করা হয়েছে, ফলে তা সিনেমা নয়, বরং গেমের মতো হ্যালুসিনেশনপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে উপস্থাপিত হয়। করিন তখনই এই প্রকল্পকে ‘চলচ্চিত্রের চেয়ে একটি ইভেন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
‘ক্যাচ’ এর মাধ্যমে করিন এবং তার স্টুডিও চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের সীমা অতিক্রম করে, ডিজিটাল আর্টের নতুন দিগন্তে পা বাড়াচ্ছে। অ্যানিমে-অনুপ্রাণিত গল্প, সিএজি ও সঙ্গীতের সমন্বয় এই প্রকল্পকে আধুনিক মিডিয়ার বহুমাত্রিক সম্ভাবনার উদাহরণ করে তুলেছে। পাঠকরা এখন এই সিরিজটি WEBTOON-এ অনুসরণ করে, সমুদ্রের গোপন জগতে ডুবে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে কল্পনা উপভোগ করতে পারবেন।
‘ক্যাচ’ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে করিনের সৃষ্টিশীল যাত্রা নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে, এবং এডজিএলআরডি’র বহুমুখী পদ্ধতি ভবিষ্যতে আরও বৈচিত্র্যময় ডিজিটাল প্রকল্পের সূচনা করতে পারে। পাঠকদের জন্য এই সিরিজটি একটি নতুন অভিজ্ঞতা, যা সমুদ্রের রহস্যময়তা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে।



