পদ্মা সেতুতে ডি-টোল সেবা চালু হওয়ায় নগদ টোলের বদলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্ভব হয়েছে। এই উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে পোস্ট, টেলিকম ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের মাধ্যমে, যিনি সরকারি সফরে খুলনা গিয়ে সেতুর ইলেকট্রনিক টোল রেজিস্ট্রেশন সেন্টার পরিদর্শন করেন।
ডি-টোলের মূল লক্ষ্য হল গাড়ির গতি কমিয়ে সময়ের অপচয় রোধ করা, যা নগদ টোল সংগ্রহে প্রায়ই দেখা যায়। মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে তাত্ক্ষণিক টোল পেমেন্ট সম্ভব হওয়ায় যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং চালকের সময় সাশ্রয় হয়। এই সুবিধা ব্যবহার করে তুমি এখন সেতু পার হওয়ার সময় ক্যাশ হাতে না রাখলেও টোল পরিশোধ করতে পারবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী যমুনা সেতু, মেঘনা‑গোমতি সেতুসহ দেশের প্রধান সেতুগুলোতে ডি-টোল ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। একবার সব সেতুতে এই সিস্টেম স্থাপিত হলে, দেশের মহাসড়ক ও সেতুর জন্য একটি একীভূত টোলিং প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠবে, যা নগদভিত্তিক টোলের তুলনায় অধিক স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।
ডি-টোলের পাইলট প্রকল্প ১৫ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতুতে শুরু হয়। তখন থেকে ৬,০০০টিরও বেশি যানবাহন নিবন্ধিত হয়েছে এবং প্রায় ৪ কোটি টাকা লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এই পরিসংখ্যান দেখায় যে ব্যবহারকারীরা দ্রুতই এই সেবার সুবিধা গ্রহণে আগ্রহী।
ডি-টোল সিস্টেমে বর্তমানে সাতটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে: বিকাশ, নগদ, ট্যাপ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি, এনসিসি ব্যাংক পিএলসি এবং প্রাইম ব্যাংক পিএলসি। এই প্রতিষ্ঠানগুলোয়ের মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করে টোল পেমেন্ট করা যায়, ফলে নতুন কোনো অ্যাকাউন্ট বা অ্যাপ ডাউনলোডের প্রয়োজন নেই।
সেবাটি ব্যবহারকারীকে শুধু বিদ্যমান মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ খুলে টোলের পরিমাণ ইনপুট করে পেমেন্ট নিশ্চিত করতে হয়। লেনদেনের রসিদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল নম্বরে পাঠানো হয়, যা ব্যবহারকারীকে রেকর্ড সংরক্ষণে সহায়তা করে। এই প্রক্রিয়া নগদ টোলের তুলনায় দ্রুত, নিরাপদ এবং কম মানবিক ত্রুটি সম্ভাবনাযুক্ত।
প্রকল্পের বাস্তবায়নে Aspire to Innovate (ATU) এর প্রকল্প পরিচালক, প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট হেড এবং চিফ টেকনোলজি অ্যাডভাইজারসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সমন্বয় ডি-টোল সিস্টেমকে কার্যকরভাবে চালু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ডি-টোলের চালু হওয়া বাংলাদেশের নগদবিহীন অর্থনীতির দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নগদ টোলের বদলে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের মাধ্যমে ট্যাক্স সংগ্রহের স্বচ্ছতা বাড়বে এবং টোল রেভিনিউ মিসের সম্ভাবনা কমবে। এছাড়া, ড্রাইভার ও যাত্রীদের জন্য সময় সাশ্রয় এবং ট্রাফিক জ্যাম কমে যাওয়া একটি বড় সুবিধা।
ভবিষ্যতে ডি-টোল সিস্টেমকে দেশের সব প্রধান সেতু ও মহাসড়কে একত্রিত করা হলে, টোলিং প্রক্রিয়া একক প্ল্যাটফর্মে সংহত হবে। এতে টোল রেটের সমন্বয়, রিয়েল-টাইম ডেটা বিশ্লেষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা সহজ হবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রযুক্তি দেশের পরিবহন অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



