শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি বিদ্যালয় ও কলেজকে এমপিওভুক্তি প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা আর্থিক লেনদেন না করার জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে। এই নির্দেশনা সকল প্রাসঙ্গিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক এবং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
সতর্কবার্তা বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, এমপিওভুক্তি সম্পূর্ণভাবে সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে এবং ম্যানুয়াল মূল্যায়নের কোনো সুযোগ থাকবে না।
মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি লক্ষ্যে ৭ জানুয়ারি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। এই বিজ্ঞপ্তি ‘এমপিও নীতিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে আবেদনগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রেডিং করবে।
‘এমপিও নীতিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মানদণ্ড স্থাপন করা হয়েছে এবং অনলাইনে দাখিল করা আবেদনগুলোকে সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে। মানদণ্ডের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, শিক্ষকসংখ্যা, শিক্ষার গুণগত মান ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হওয়ায় কোনো ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ বা আর্থিক লেনদেনের প্রয়োজন নেই। এই নির্দেশনা অনুসরণ না করলে আবেদনটি অগ্রাহ্য করা হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, লিখিত, মৌখিক বা সুপারিশের মাধ্যমে কোনো আবেদন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বা এর অধীনস্থ কোনো দপ্তরে দাখিল করা যাবে না। সকল আবেদন শুধুমাত্র অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে।
আবেদন করার জন্য ‘On line MPO Application’ শিরোনামে নির্ধারিত তিনটি সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এই সাইটগুলো হল www.shed.gov.bd, www.dshe.gov.bd এবং www.banbeis.gov.bd।
প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সাইটগুলোতে নিবন্ধন করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি আপলোড করতে হবে। সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করে মানদণ্ডের সঙ্গে তুলনা করবে এবং গ্রেড নির্ধারণ করবে।
ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদনকারীর পরিচয় যাচাই, ডেটা নিরাপত্তা এবং মূল্যায়নের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা হবে। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, এই পদ্ধতি আবেদন প্রক্রিয়ার সময়সীমা কমাবে এবং মানবিক ত্রুটি দূর করবে।
প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ করার সময় সব তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করতে হবে, কারণ একবার জমা দিলে তা পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। এছাড়া, আবেদন ফি বা অন্য কোনো আর্থিক লেনদেনের প্রয়োজন নেই; সব প্রক্রিয়া বিনামূল্যে সম্পন্ন হবে।
মন্ত্রণালয় আবেদন প্রক্রিয়ার কোনো ধাপেই ব্যক্তিগত যোগাযোগের অনুরোধ করলে তা অবৈধ বলে গণ্য করা হবে। এ ধরনের অনুরোধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সকল বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এই নির্দেশনা মেনে চলা বাধ্যতামূলক। না মানলে এমপিও তালিকায় অন্তর্ভুক্তি থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি থাকে।
আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখ বা সময়সীমা সম্পর্কে কোনো অতিরিক্ত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি; তবে মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে তা জানাবে। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত সরকারি পোর্টাল পর্যবেক্ষণ করতে বলা হচ্ছে।
প্রয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নথি যেমন অনুমোদন পত্র, শিক্ষক তালিকা, অবকাঠামো সংক্রান্ত তথ্য ইত্যাদি প্রস্তুত করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব নথি অনলাইনে আপলোড করার সময় ফাইলের ফরম্যাট ও আকারের নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
ডিজিটাল আবেদন প্রক্রিয়ার সুবিধা ব্যবহার করতে ইন্টারনেট সংযোগ স্থিতিশীল থাকা এবং ব্রাউজার আপডেটেড রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের হেল্পডেস্কের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
আপনার প্রতিষ্ঠান যদি এমপিওভুক্তির জন্য প্রস্তুত থাকে, তবে উপরে উল্লেখিত তিনটি সরকারি সাইটে গিয়ে অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ করুন এবং সকল নির্দেশনা মেনে চলুন।
আপনার মতামত কী? আপনি কি ডিজিটাল আবেদন প্রক্রিয়ার সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন বা উদ্বেগ পোষণ করছেন? মন্তব্যে জানান।



