১৫ জানুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ঢাকা শহরে এক গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের অংশ হিসেবে সাবেক হিট অফিসার বুশরাকে দুদক ইউনিটের কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদে ডেকেছেন। বুশরা, যিনি পূর্বে হাইড্রোইলেকট্রিক টার্মিনাল (HIT) বিভাগে উচ্চ পদে ছিলেন, তার পদত্যাগের পরেও বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক মামলায় নাম উঠে এসেছে।
দুদক, যা দেশের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও তদন্ত সংস্থা, বুশরার পূর্ববর্তী দায়িত্বকালের কার্যক্রম ও আর্থিক লেনদেনের ওপর আলোকপাত করতে এই জিজ্ঞাসাবাদ পরিচালনা করেছে। তদন্তকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে, বুশরার পদত্যাগের পরেও তার কিছু সিদ্ধান্ত ও আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা এই তদন্তের মূল কারণ।
অধিকাংশ সূত্রের মতে, বুশরার জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে তার পূর্ববর্তী পদে গৃহীত নীতি, সম্পদের ব্যবহার এবং সম্ভাব্য দুর্নীতির অভিযোগে প্রশ্ন করা হয়। তিনি তার কর্মকালের কিছু সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হন, যার মধ্যে কিছু প্রকল্পের তহবিলের বরাদ্দ এবং সরবরাহ চেইনের ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত।
দুদকের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই জিজ্ঞাসাবাদ কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ভিত্তিতে নয়, বরং স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। তারা উল্লেখ করেন যে, তদন্তের ফলাফল যদি কোনো অবৈধ কার্যকলাপ প্রকাশ করে, তবে সংশ্লিষ্ট আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বুশরার আইনজীবী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তার ক্লায়েন্ট পুরো প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছেন এবং সকল প্রশ্নের সৎ উত্তর দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, কোনো প্রমাণ না থাকলে কোনো অভিযোগের ভিত্তি গঠন করা যাবে না।
এই জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে সঙ্গে দুদক অতিরিক্ত কিছু বিষয়ও তদন্তের আওতায় নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে হিট বিভাগে আর্থিক তহবিলের অস্বাভাবিক প্রবাহ এবং কিছু চুক্তির অস্বচ্ছতা। সূত্রগুলো জানায় যে, এই বিষয়গুলোতে আরও বিশদ তদন্তের প্রয়োজন হতে পারে।
অধিক তথ্য প্রকাশ না করে, দুদক কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে যে, তদন্তের গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে এবং কোনো অপ্রয়োজনীয় তথ্য লিক হওয়া থেকে রক্ষা পেতে হবে। তারা সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আইনের সীমানা মেনে চলতে আহ্বান জানিয়েছে।
বুশরার পূর্ববর্তী কর্মজীবন সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য যে, তিনি হিট বিভাগে কর্মরত থাকাকালীন বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পের তত্ত্বাবধান করেন, যার মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ অন্তর্ভুক্ত। তার পদত্যাগের পরেও তিনি কিছু পরামর্শক কাজ চালিয়ে গেছেন, যা এখন তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে উপস্থিত কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে, বুশরার সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সময় তিনি শান্তভাবে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এবং কোনো বিরোধপূর্ণ বক্তব্য প্রকাশ করেননি। তবে তিনি কিছু নথি ও রেকর্ড সরবরাহের জন্য সময়সীমা চেয়েছেন, যা তদন্তের অগ্রগতিতে সহায়ক হতে পারে।
এই ঘটনার পর, দেশের বিভিন্ন মিডিয়া সংস্থা ও নাগরিক সমাজের গোষ্ঠী তদন্তের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য নজর রাখবে বলে জানিয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, কোনো ধরণের দুর্নীতি বা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
দুদক কর্তৃপক্ষের মতে, এই জিজ্ঞাসাবাদ কেবল একটি প্রাথমিক ধাপ এবং পরবর্তী পর্যায়ে আরও বিশদ তদন্ত, নথি বিশ্লেষণ এবং সম্ভাব্য সাক্ষী সংগ্রহ করা হবে। তারা উল্লেখ করেছেন যে, তদন্তের ফলাফল যদি স্পষ্ট হয়, তবে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
বুশরার পরিবার ও সমর্থকরা জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, তবে তারা জানিয়েছেন যে, তার আইনজীবী দল সব ধরণের আইনি সহায়তা প্রদান করবে এবং প্রয়োজনীয় সব নথি সরবরাহ করবে। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, তার ওপর কোনো অবৈধ অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে তিনি দ্রুত মুক্তি পাবেন।
দুদকের প্রধান কর্মকর্তা এই জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রতি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এমন তদন্তগুলো দেশের জনসাধারণের আস্থা বাড়াতে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সামগ্রিকভাবে, এই জিজ্ঞাসাবাদ দেশের আইনগত কাঠামোর মধ্যে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের অধিকার ও দায়িত্ব রক্ষা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে তদন্তের অগ্রগতি ও ফলাফল সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশিত হবে।



