ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ থমাস টুচেল বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে বলছেন, খেলোয়াড়দের কেবল প্রতিভা নয়, সামাজিক দক্ষতা এবং দলীয় সাদৃশ্যই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। পাঁচ মাসের মধ্যে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্ট, যেখানে ইংল্যান্ড গ্রুপ এল‑এর প্রথম ম্যাচে ডালাসে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে।
টুচেল জানান, তিনি মার্চ মাসে দুইটি প্রস্তুতিমূলক বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচের পরই বিশ্বকাপের স্কোয়াড চূড়ান্ত করবেন। এই দুইটি ম্যাচই শেষ মুহূর্তের পারফরম্যান্স ও দলের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের পরীক্ষা হিসেবে কাজ করবে। তিনি অতীতের শীতকালীন কোয়ালিফায়ার সময় গড়ে তোলা “ভ্রাতৃত্ব” ধারণাকে পুনরায় জোর দিচ্ছেন।
এক বছর আগে টুচেল দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, এখনো এমন কিছু বিষয় আছে যা শুধুমাত্র ট্যাকটিক্যাল দক্ষতা দিয়ে সমাধান করা যায় না। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলার সময় সর্বদা দলীয় সংযোগ ও যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
টুচেল বলেন, “যখন খেলোয়াড়রা একে অপরের সঙ্গে সঠিকভাবে সংযুক্ত থাকে, তাদের ভূমিকা স্পষ্ট থাকে এবং তারা ক্যাম্পে একসাথে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, তখনই দল সফল হয়।” তিনি আরও যোগ করেন, ক্যাম্পে থাকা সময়ের চার সপ্তাহের মধ্যে যদি খেলোয়াড়দের মনোভাব ঠিক না থাকে, তবে ফলাফল নষ্ট হতে পারে।
বিশেষ করে রাউন্ড অফ ১৬‑এর পর যদি খেলোয়াড়রা বাড়ি ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে, তখন দলের শক্তি হ্রাস পায়। টুচেল এই পরিস্থিতি এড়াতে দলীয় মনোবল ও সামাজিক সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দিতে চান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্কোয়াডে কেবল দক্ষতা নয়, খেলোয়াড়ের সমর্থন ক্ষমতা এবং সহকর্মী হিসেবে তার আচরণও গুরুত্বপূর্ণ।
টুচেল উল্লেখ করেন, “একজন খেলোয়াড়ের সামাজিক দক্ষতা, তার টিমমেটের সঙ্গে সমন্বয়, এবং তার ভূমিকা সমর্থন করার ক্ষমতা—এগুলোই এখন আমাদের নির্বাচন প্রক্রিয়ার মূল মানদণ্ড।” তিনি এ কথায় স্পষ্ট করে জানান, ভবিষ্যতে এমন খেলোয়াড়দেরই বেশি সুযোগ দেওয়া হবে, যারা ক্যাম্পে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
ইংল্যান্ডের কোচিং স্টাফ এখনো স্কোয়াডের চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। টুচেলের মতে, নির্বাচনের সময়ে তিনি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নয়, দলের সামগ্রিক সাদৃশ্যও মূল্যায়ন করবেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি বলছেন, “প্রতিভা গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা একা যথেষ্ট নয়।”
টুচেল গত মাসে একটি সাক্ষাৎকারে এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন, যদিও সাক্ষাৎকারটি বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে। তিনি জানান, বিশ্বকাপের পরিকল্পনা ও স্কোয়াডের চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণে এখনো কিছু সময় বাকি আছে। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, দল গঠনের সময় সামাজিক দিককে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ইংল্যান্ডের পূর্ববর্তী ইউরোফাইনালে রানেরারূপে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের পর, টুচেল দলকে আরও একবার শিরোপা জয়ের জন্য প্রস্তুত করতে চান। তিনি উল্লেখ করেন, “একটি শক্তিশালী দল গঠনের জন্য শুধু ট্যাকটিক্স নয়, খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সমর্থনও দরকার।”
দুটি মার্চের বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচের ফলাফল এবং দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের মূল্যায়নের ভিত্তিতে টুচেল শেষ পর্যন্ত স্কোয়াডের তালিকা প্রকাশ করবেন। এই তালিকা বিশ্বকাপের আগে প্রকাশিত হবে, যা ভক্ত ও বিশ্লেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হবে।
টুচেল শেষ কথা বলেন, “যদি আমরা সঠিক খেলোয়াড়দের নির্বাচন করি, যারা একে অপরের সঙ্গে ভালোভাবে কাজ করতে পারে, তবে আমরা বিশ্বকাপের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকব।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, ক্যাম্পে সঠিক মনোভাব ও দলীয় সংযোগ গড়ে তোলার মাধ্যমে ইংল্যান্ডের সাফল্য নিশ্চিত হবে।
ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রা এখনো শুরু হয়নি, তবে টুচেল যে দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন, তা দলের গঠন ও প্রস্তুতিতে নতুন দিক নির্দেশ করবে। সামাজিক দক্ষতা ও দলগত সাদৃশ্যকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি এমন একটি দল গড়তে চান, যা দীর্ঘ সময়ের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে পারবে এবং শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয়ের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারবে।



