বাংলাদেশ জামায়াত‑ইসলামি নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ১৩তম সংসদীয় নির্বাচনের আগে ২৫৩টি নির্বাচনী আসনের জন্য সিট বণ্টন চূড়ান্ত করেছে। সিট ভাগাভাগি কীভাবে হবে, কে কতটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে – এ সব তথ্য আজ ঢাকা‑এর ক্যাকারাইল এলাকায় একটি প্রেস সম্মেলনে জানানো হয়।
প্রেস সম্মেলনের প্রধান বক্তা ছিলেন জামায়াতের নায়েব‑এমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি ইন্সটিটিউট অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের হল থেকে ঘোষণা দেন যে, জামায়াত ১৭৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। বাকি পার্টিগুলোর জন্য নির্ধারিত সংখ্যা আলাদা করা হয়েছে।
জাতীয় সিটিজেন পার্টি (NCP) ৩০টি আসনে অংশ নেবে। মমুনুল হক নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি আসনে, আর আলাদা খেলাফত মজলিস ১০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি সাতটি আসনে, এ বি পার্টি তিনটি আসনে, নিজাম ইস্লামি পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি প্রত্যেকটি দুইটি আসনে দৌড়াবে।
প্রেস সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জোটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ইস্লামি আন্দোলন বাংলাদেশ (IAB) এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেনি। IAB মূলত ব্রিফিং থেকে বিরত থেকে, নিজের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে।
তবে IAB‑এর জন্য ৪৭টি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। জোটের অন্যান্য দুইটি সদস্য, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (Jagpa), তাদের আসন সংখ্যা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানান, যদি ভবিষ্যতে খেলাফত আন্দোলন বা Jagpa‑কে অতিরিক্ত আসন বরাদ্দ করা হয়, তবে IAB‑এর সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা হ্রাস পেতে পারে। এই সম্ভাব্য পরিবর্তন জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়কে প্রভাবিত করবে।
IAB‑এর পক্ষ থেকে পরবর্তীতে একটি বিবৃতি প্রকাশের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তারা আগামীকাল বিকেল ৩টায় তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিডিয়াকে জোটের বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানাবে।
এই সিট শেয়ারিং ঘোষণার ফলে জোটের অভ্যন্তরে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যদিও বেশিরভাগ পার্টি তাদের আসন পেয়েছে, তবে IAB‑এর অনুপস্থিতি ও সম্ভাব্য আসন হ্রাসের কথা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে প্রশ্ন তুলেছে।
জোটের নেতৃত্বের মতে, এই বণ্টন নির্বাচনী কৌশলকে শক্তিশালী করবে এবং ১৩তম সংসদীয় নির্বাচনে জোটের সমন্বিত প্রচারকে সমর্থন দেবে। তবে প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে এই সিট ভাগাভাগি জোটের অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে, জোটের সব সদস্য পার্টি তাদের নির্ধারিত আসনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করবে এবং নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবে। IAB‑এর ব্রিফিংয়ের ফলাফলও জোটের সামগ্রিক কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।
সংক্ষেপে, জামায়াত‑নেতৃত্বাধীন জোটের সিট শেয়ারিং ঘোষণায় ২৫৩টি আসনের বণ্টন স্পষ্ট হয়েছে, তবে IAB‑এর অংশগ্রহণ ও অন্যান্য দুই পার্টির আসন নির্ধারণ এখনও অনিশ্চিত, যা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক গতিপথকে প্রভাবিত করবে।



