যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে গাজা উপত্যকায় ২.১ মিলিয়ন বাসিন্দার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তীব্রতর হয়েছে। পরিকল্পনার নতুন ধাপটি ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়, যেখানে গাজা ও ইসরায়েল উভয়ের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক কাঠামো এবং মানবিক অবস্থা নির্ধারণের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তবে পরিকল্পনার বিশদে ঘাটতি এবং বাস্তবায়নের শর্তগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশাল অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে গাজা অঞ্চলে অস্ত্রবিরতি এবং হামাসসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবসর গ্রহণের শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এই শর্তের মূল উদ্দেশ্য হল গাজার নিরাপত্তা পরিবেশকে স্থিতিশীল করা এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তির ভিত্তি গড়ে তোলা।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ envoy স্টিভ উইটকফের মতে, হামাস যদি অস্ত্র ত্যাগে অস্বীকৃতি জানায়, তবে তা গাজা অঞ্চলে গুরুতর পরিণতি ডেকে আনবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, পরিকল্পনার সাফল্য নির্ভর করে গাজার সব সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমন্বিত পদক্ষেপের উপর।
হামাসের নেতৃত্ব এখন পর্যন্ত অস্ত্র ত্যাগের কোনো সংকেত দেয়নি এবং তাদের মতে অস্ত্রই ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক দখলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের মূল হাতিয়ার। এই অবস্থানই গাজার রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোটের ডানপন্থী সদস্যরা হামাসের অস্বীকৃতির পর গাজার উপর সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার দাবি তুলেছেন। তারা পরিকল্পনার বাস্তবায়নকে বাধা হিসেবে দেখছেন এবং গাজার উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে ইচ্ছুক।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে জানাচ্ছে যে, গাজার হামাসের নতুন সদস্যসংখ্যা ইসরায়েলীয় আক্রমণে নিহত সংখ্যার চেয়ে বেশি। এই তথ্য গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠীর পুনর্গঠন ক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
অক্টোবর ২০২৩ থেকে চালু থাকা সাময়িক যুদ্ধবিরতি এখনো সম্পূর্ণভাবে স্থিতিশীল নয়। উভয় পক্ষই একে অপরকে ধারাবাহিক লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে, যা ভবিষ্যতে কোনো বড় সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনুসারে, সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময় গাজার ওপর ইসরায়েলীয় বোমা হামলায় ৪৫০-এর বেশি প্যালেস্টাইনীয় নাগরিক নিহত হয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েলীয় সশস্ত্র বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠীর আক্রমণে তিনজন ইসরায়েলীয় সৈনিকের মৃত্যু ঘটেছে।
ইসরায়েল গাজার থেকে কতটুকু সেনা প্রত্যাহার করবে তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো নীতি প্রকাশ করা হয়নি। ইসরায়েলি সরকার গাজার নিরাপত্তা বজায় রাখতে শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা গাজার ভবিষ্যৎকে “নতুন বাস্তবতা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং হামাসের ৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখের আক্রমণের পর গাজার পূর্বের অবস্থা কখনোই পুনরুদ্ধার হবে না বলে দাবি করছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি গাজার ভূ-রাজনৈতিক কাঠামোকে পুনর্গঠন করার ইঙ্গিত দেয়।
পরিকল্পনার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রত্যাহার এবং গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবসর গ্রহণের পরিসীমা নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা বাড়ছে। উভয় পক্ষের অবস্থান যদি সমন্বয় না হয়, তবে গাজার শান্তি প্রক্রিয়া আবারও স্থবির হয়ে পড়তে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, ট্রাম্পের পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ের অমসৃণতা গাজার দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে গাজার রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ইসরায়েলি সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বিত আলোচনার প্রয়োজনীয়তা বাড়বে।



