23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিঅন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা নিয়ে বিশ্লেষণ

অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা নিয়ে বিশ্লেষণ

গুলশানের একটি হোটেলে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচনী নিরপেক্ষতা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার সংসদীয় সংস্কার, সংলাপ ও ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, ফলে নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

সম্মেলনের আয়োজন ‘নাগরিক প্ল্যাটফর্ম’ উদ্যোগের মাধ্যমে করা হয়, যা এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত। এখানে আগামী সরকারের জন্য ১২টি নীতি বিবৃতি ও প্রস্তাবিত জাতীয় কর্মসূচি উপস্থাপন করা হয়। ড. ভট্টাচার্য বলেন, নতুন শক্তির কথা বলে সরকার একটি ক্ষুদ্র ও উগ্র গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি হয়ে গেছে, যা নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সরকার কি নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।

ড. ভট্টাচার্য আরও উল্লেখ করেন, পুরোনো বন্দোবস্তের ধারক ও বাহক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর আবার উত্থান ঘটেছে। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনীতিবিদরা আত্মগোপনে গেছেন, তবে আমলাতন্ত্র দ্রুত ফিরে এসেছে। তার মতে, পুরোনো বন্দোবস্তের সবচেয়ে বড় রক্ষকই হল আমলাতন্ত্র, এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারই এই ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করেছে।

এই মন্তব্যের পর, অংশগ্রহণকারীরা প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে সরকার সংলাপ ও ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত করতে পারে। কিছু বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি ও কর্মসূচি যদি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তবে নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস বাড়তে পারে। অন্যদিকে, সরকার যদি এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করে, তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বৈধতা ও জনমত গঠনকে শক্তিশালী করা সম্ভব।

সম্মেলনে উপস্থাপিত ১২টি নীতি বিবৃতি ও কর্মসূচির মধ্যে নির্বাচন সংস্কার, নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, এবং শাসন কাঠামোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ধাপগুলো অন্তর্ভুক্ত। ড. ভট্টাচার্য জোর দিয়ে বলেন, এই নীতিগুলো বাস্তবায়ন না হলে সরকারী কাঠামোতে পুরোনো গোষ্ঠীর প্রভাব বাড়তে পারে, যা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের বর্তমান অবস্থান ও ক্ষমতা নিয়ে বিশ্লেষকরা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মন্তব্য করেন। একদল বিশ্লেষক বিশ্বাস করেন, সরকার যদি সংলাপের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, তবে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গততা বজায় থাকবে। অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেন, সরকার যদি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় করে, তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সম্ভাবনা বাড়বে।

ভবিষ্যতে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সরকারকে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করেন, নির্বাচন কমিশনের স্বতন্ত্রতা নিশ্চিত করা, ভোটার তালিকা পরিষ্কার করা, এবং নির্বাচনী প্রচারণা নিয়মাবলী কঠোরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি। এছাড়া, নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি জনবিশ্বাস জোরদার করা সম্ভব হবে।

সারসংক্ষেপে, গুলশানের সম্মেলনে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচনী নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং পুরোনো বন্দোবস্তের পুনরুত্থানকে সতর্কতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার যদি সংলাপ ও ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংস্কার না করে, তবে নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা ক্ষীণ হয়ে যাবে। এই আলোচনার পরবর্তী ধাপ হবে নীতি ও কর্মসূচির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments