চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর লুটপাটের তহবিল ব্যবহার করে গণভোট নিয়ে পরিকল্পিত মিথ্যা প্রচার চালানোর অভিযোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রচারণা ভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রক্রিয়াকে বিকৃত করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।
আলী রীয়াজের মতে, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর শহিদদের রক্তে রচিত। তিনি শহিদদের রক্তের দায়িত্ব ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানান এবং জোর দিয়ে বলেন, আসন্ন গণভোটই দেশের দিকনির্দেশ নির্ধারণের মূল মুহূর্ত।
দুর্নীতি মোকাবেলায় তিনি অতীতের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ব্যবহারের পদ্ধতিকে সমালোচনা করেন, যেখানে বিরোধী গোষ্ঠীকে দমন করার জন্য কমিশনকে কাজে লাগানো হয়েছে। রীয়াজ বলেন, এখনো দুর্নীতি রোধের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা যায়নি, তবে ভোটের মাধ্যমে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিলে দুদকের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে পারে।
এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের ফলাফলে সংসদে বিরোধী দলের নেতৃত্বে একটি তদারকি কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে, যা সরকারের আর্থিক বিষয়ের ওপর নজরদারি বাড়াবে। এই ধরনের কাঠামো গঠন দুর্নীতি দমনকে আরও কার্যকর করে তুলবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
সম্মেলনের বিশেষ অতিথি মনির হায়দার, যিনি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) হিসেবে কাজ করেন, একই রকম দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী লুটপাটের অর্থ দিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে জাতির অগ্রগতিকে বাধা দিতে চায়। হায়দার জুলাই সনদকে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার স্থায়ী দলিল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ৫৪ বছর পরেও আমরা বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।
ধর্মসচিব মো. কামাল উদ্দিন অতীতের নির্যাতনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে শাসনের কঠোর নীতি সত্ত্বেও আলেমদের সত্য বলতে বাধা দেয়া হয়নি। তিনি ঐতিহাসিক সত্যের প্রতি অটল থাকার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন সম্মেলনের সভাপতিত্বে ছিলেন এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ উপস্থিত ছিলেন। উভয়ই বক্তাদের বক্তব্যকে সমর্থন করে জনগণকে গণভোটে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশ এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য মন্তব্য ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। যদি ভোটের মাধ্যমে দুদকের নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং সংসদীয় তদারকি কমিটি গঠন হয়, তবে দুর্নীতি দমন ও শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়াগুলি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করতে পারে।



