বিএনপি চেয়ারম্যান তারিক রাহমান, স্ত্রী জুবাইদা রাহমান ও কন্যা জাইমা রাহমান আজ সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় গেস্ট হাউস জামুনায় চিফ অ্যাডভাইজার প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে একত্রিত হন। সাক্ষাৎকারের সময়সূচি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দু’পক্ষের পূর্ববর্তী যোগাযোগের বিবরণ আজকের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
বিকাল ৭:২৬ টায় তারিক রাহমান পরিবার জামুনা গেস্ট হাউসে পৌঁছায়। নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের গেস্ট হাউসের সামনের অংশে প্রবেশে বাধা দেন এবং রামনা পার্ক গেটের বিপরীত পাশে অপেক্ষা করতে নির্দেশ দেন। এই ব্যবস্থা নিরাপত্তা জোরদার করার প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়।
সাক্ষাৎ শেষে পরিবার রাত ৯:১১ টায় গেস্ট হাউস ত্যাগ করে। এই তথ্যটি বিএনপি মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে। সাক্ষাৎকারের সময়কাল ও বিষয়বস্তু সরকারী সূত্রে প্রকাশিত হয়নি, তবে দু’পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্য।
তারিক রাহমান ও প্রফেসর ইউনুসের শেষ এক-অন-এক সাক্ষাৎ লন্ডনে গত বছর অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই মিটিংয়ে উভয় পক্ষের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, যদিও বিস্তারিত প্রকাশিত হয়নি। লন্ডন সাক্ষাৎকারের পর থেকে দু’জনের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ কমে গিয়েছিল।
১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসন কাটিয়ে তারিক রাহমান ২৫ ডিসেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশে ফিরে আসেন। ভিআইপি লাউঞ্জে অবতরণ করার পর তিনি ফোনের মাধ্যমে প্রফেসর ইউনুসের সঙ্গে কথা বলেন এবং সাময়িক সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই ফোনালাপের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও পরিবারিক সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়।
ডিসেম্বর ৩১ তারিখে পার্লামেন্টের প্রাঙ্গণে খালেদা জিয়ার নামাজ-এ-জনাজা সমাপ্তির সময় তারিক রাহমান ও প্রফেসর ইউনুসকে সংক্ষিপ্তভাবে একসঙ্গে দেখা যায়। দু’জনের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎটি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি।
খালেদা জিয়া, যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন, ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর বিএনপির চেয়ারম্যান পদ শূন্য থাকে। ৯ জানুয়ারি তারিক রাহমানকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এই সিদ্ধান্ত পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকারি পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সাময়িক সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাসন থেকে ফিরে আসা নেতাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে, নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য সাংবাদিকদের প্রবেশে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাসের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
অবস্থানগতভাবে, বিরোধী দলের (আওয়ামী লীগ) প্রতিনিধিরা এই সাক্ষাৎকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, দেশের নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সকল রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দায়িত্ব। ভবিষ্যতে এই সাক্ষাৎকারের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপগুলো কী রকম হবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলবে।
সারসংক্ষেপে, তারিক রাহমান ও পরিবার চিফ অ্যাডভাইজারের সঙ্গে জামুনা গেস্ট হাউসে সাক্ষাৎ করেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হয় এবং বিএনপির নেতৃত্বে নতুন পরিবর্তন আসে। এই ঘটনার পরবর্তী রাজনৈতিক বিকাশ দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



