শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রফিকুল আবরার জানিয়েছেন, সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের জন্য প্রস্তাবিত অধ্যাদেশটি শীঘ্রই কেবিনেটের আলোচনায় উপস্থাপন করা হবে। বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া গিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ফেরত আনা হয়েছে এবং আগামী রবিবারের মধ্যে কেবিনেটের কাছে পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য শেয়ার করেন। তিনি উল্লেখ করেন, অধ্যাদেশের দ্রুত অনুমোদন শিক্ষার ধারাবাহিকতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে ইতিমধ্যে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ক্লাস চালু করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।
কেবিনেটের অনুমোদন পাওয়ার পর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মাধ্যমে অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত রূপ পাবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের জন্য পাঠানো হবে।
অধ্যাদেশের পরিমার্জিত খসড়া মঙ্গলবার আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তসহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়ার পর আজই তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ফিরে এসেছে।
একটি অধ্যাদেশ প্রকাশের জন্য কেবিনেটের অনুমোদন ছাড়াও আইন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের একাধিক দপ্তরের স্বীকৃতি প্রয়োজন। সাধারণত এই প্রক্রিয়ায় তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগে, তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাত্র দেড় মাসে সব প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন করেছে।
এই অধ্যাদেশটি প্রশাসনিক উৎকর্ষতা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি এবং লেজিসলেটিভ বিভাগের ভেটিং শেষ হওয়ার পর উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপ শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সুষ্ঠু ভাবে চালু করতে সহায়ক হয়েছে।
উপদেষ্টা শিক্ষকদের ও শিক্ষার্থীদের পেশাদারিত্ব এবং ধৈর্যশীল সহযোগিতা আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অসম্পূর্ণ তথ্য বা গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে শিক্ষার কোনো বাধা না আসার জন্য সকল সংশ্লিষ্টকে সতর্ক থাকতে হবে।
অধ্যাদেশের খসড়ায় দুইটি প্রযুক্তিগত বিষয় চিহ্নিত হয়েছিল। সেগুলো সংশোধন করে চূড়ান্ত সংস্করণ প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে বাস্তবায়নের সময় কোনো আইনি বা কাঠামোগত অসঙ্গতি না থাকে।
শিক্ষা নীতি ও নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে শিক্ষার্থীরা মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও প্রকাশিত নোটিশ নিয়মিত অনুসরণ করা উচিত। এভাবে সময়মতো আপডেট পেয়ে শিক্ষাজীবন পরিকল্পনা সহজ হবে।
সারসংক্ষেপে, সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশের দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন শিক্ষার ধারাবাহিকতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের জন্য সময়মতো তথ্য সংগ্রহ এবং অফিসিয়াল সূত্রে নজর রাখা ভবিষ্যতে কোনো অনিশ্চয়তা এড়াতে সহায়ক হবে।



