বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দাবলু, যিনি জিবন্নগর জেলায় সেনা হেফাজতে মারা গেছেন, আজ সকাল দশটায় চুয়াডাঙ্গা জেলার জিবন্নগর পৌর সেন্ট্রাল ঈদগাহ কবরস্থানে সমাহিত হয়েছেন। দাবলু গৃহযুদ্ধের সময় জিবন্নগরে গ্রেপ্তার হন এবং মঙ্গলবার ভোরবেলায় হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন। তার দেহকে স্থানীয় ধর্মীয় রীতি অনুসারে শবযাত্রা করে কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
দাফনের পর ধর্মীয় প্রার্থনা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাবলুর বড় ভাই শারিফুল ইসলাম কাজল উপস্থিত হয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “সবার কাছ থেকে ন্যায়সঙ্গত বিচারের আশ্বাস পাওয়া গেছে, তবে শুধুমাত্র আশ্বাসে সন্তুষ্ট হতে পারি না। সংশ্লিষ্টদের বিচার চাই এবং কোনো ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত নয়।” কাজলের এই বক্তব্য দাফনের পরই শোনা যায়।
দাবলুর মৃত্যু ঘটার তৃতীয় দিনেও কোনো অপরাধমূলক অভিযোগ দাখিল করা হয়নি। জিবন্নগর থানা অফিসার ইন চার্জ সোলায়মান শেখ সন্ধ্যা ছয়টায় জানিয়ে দেন যে, পরিবারের কোনো সদস্য এখনও পুলিশে অভিযোগ দাখিল করেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পুলিশ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে ব্যস্ত রয়েছে।
কাজল জানান, মামলাটি তাদের শ্বশুরবাড়ির আইনজীবী বাদিয়ুজ্জামান এবং পার্টির অন্যান্য নেতাদের সমন্বয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “একাই এই কাজটি সামলাতে পারছি না; পার্টির সমর্থন ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।” বাদিয়ুজ্জামানও একই সময়ে মন্তব্য করে জানান, “শুক্রবারের মধ্যে কিছু সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি, তবে তা পার্টির সমন্বয় ও সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল।”
দাবলু জিবন্নগর পৌর ইউনিটের জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করতেন এবং তার রাজনৈতিক কার্যক্রমের জন্য স্থানীয় মানুষদের মধ্যে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুর পর পরিবার, প্রতিবেশী ও দলীয় নেতারা দাবি করেন যে, সেনা কর্মীরা তাকে গ্রেপ্তার করার পর শারীরিক নির্যাতন করে মৃত্যুর কারণ তৈরি করেছেন।
অন্যদিকে, ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) একটি প্রেস রিলিজে জানিয়েছে যে, দাবলু যৌথ বাহিনীর কার্যক্রমের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। আইএসপিআরের মতে, তিনি কোনো নির্যাতনের শিকার হননি এবং মৃত্যুর কারণ স্বাভাবিক রোগের ফলাফল।
এই দুইটি ভিন্ন বিবরণে পার্থক্য স্পষ্ট হওয়ায় তদন্তের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। স্থানীয় পুলিশ এখনো কোনো FIR দাখিল না হওয়ায়, আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য পরিবারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের অপেক্ষা করছে। যদি অভিযোগ দাখিল করা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে।
বিএনপি দলও দাবলুর মৃত্যুর পর দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে থাকে। দলীয় নেতারা বলছেন, “যদি সত্যিই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তা দ্রুত আদালতে উপস্থাপন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।” এদিকে, পার্টির আইনজীবী বাদিয়ুজ্জামান আদালতে মামলার দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সেনা ও পুলিশ উভয়ের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের পারস্পরিক বিরোধিতা তদন্তের জটিলতা বাড়িয়ে তুলেছে। সরকারী সূত্রের মতে, দাবলুর মৃত্যু স্বাভাবিক রোগের ফল, তবে পার্টি ও পরিবার এই ব্যাখ্যাকে অস্বীকার করে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরছে।
অধিকন্তু, বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলে আদালত কীভাবে এই বিরোধপূর্ণ তথ্য বিশ্লেষণ করবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। যদি অভিযোগ দাখিল হয়, তবে প্রথম ধাপে ফৌজদারি তদন্তের জন্য এক্স-ইনভেস্টিগেশন টিম গঠন করা হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
বিএনপি দল ও দাবলুর পরিবার উভয়ই জোর দিয়ে বলছে যে, ন্যায়সঙ্গত বিচার ছাড়া কোনো সমাধান সম্ভব নয় এবং তারা আইনি পথে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। এদিকে, স্থানীয় জনগণ দুঃখ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে দাবলুর মৃত্যুর সত্যিকারের কারণ জানার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে।
এই ঘটনায় সংবেদনশীলতা বজায় রেখে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্ত চালিয়ে যাওয়া এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।



