ঢাকা‑টাঙ্গাইল মহাসড়কে একটি চলমান বাসে একা পেয়ে তরুণীর ওপর দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠে, ফলে হাইওয়ে পুলিশ টাঙ্গাইল থেকে বাস চালক ও দুই সহচরকে গ্রেফতার করেছে। ভুক্তভোগী কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা, যিনি বর্তমানে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় বসবাস করেন, তার ওপর এই অপরাধের অভিযোগ জানানো হয়েছে।
ঘটনা ঘটার সময় ভুক্তভোগী বাসে একা ছিলেন এবং হঠাৎ কয়েকজন পুরুষ তার ওপর আক্রমণ করে যৌন নির্যাতন করেন। অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং সংশ্লিষ্ট বাসের চালক আলতাফ (২৫) ও তার দুই সহচর মো. সাগর (২৪) এবং মো. রাব্বি (২১) কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত তিনজনের বাসস্থান ও পরিচয় নিম্নরূপ: আলতাফ দিনাজপুর সদর উপজেলার নরদেরাই গ্রাম থেকে, সাগরের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চরহাট গ্রাম এবং রাব্বি হবিগঞ্জের সদর উপজেলার আব্দুল পাগা গ্রাম থেকে।
গ্রেফতারকৃত তিনজনকে টাঙ্গাইল হাইওয়ে পুলিশ সদর দফতরে উপস্থিত করা হয় এবং তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে বাসের চালক ও সহচররা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করার চেষ্টা করেন, তবে হাইওয়ে পুলিশ তাদের অনুসরণ করে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দলবদ্ধ ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং অপরাধস্থল থেকে পালানোর প্রচেষ্টা সহ একাধিক অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত তিনজনের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তার শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। পুলিশ ও স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা একসাথে কাজ করে ভুক্তভোগীর পুনর্বাসন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
আইনি দিক থেকে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দলবদ্ধ ধর্ষণ সংক্রান্ত আইনের অধীনে কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ ইতিমধ্যে মামলাটি সংশ্লিষ্ট আদালতে দাখিল করেছে এবং পরবর্তী শুনানির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আদালতে মামলার প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হবে, যাতে অপরাধের প্রকৃতি ও দায়িত্ব স্পষ্ট করা যায়।
এই ঘটনার পর, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে রাত্রিকালীন বাস চলাচল, একা যাত্রীদের সুরক্ষা এবং অপরাধ প্রতিরোধে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া, রাস্তায় চলাচলকারী যাত্রীদের জন্য নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে বাস চালকদের প্রশিক্ষণ ও তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারী সুরক্ষার জন্য জনসাধারণের মধ্যে তথ্য প্রচার করা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়েছেন। নারী অধিকার সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই ঘটনার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে, ভুক্তভোগীর অধিকার রক্ষার জন্য ত্বরিত আইনি সহায়তা ও মানসিক সমর্থন প্রদান করার দাবি জানিয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ ইতিমধ্যে এই মামলায় সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ সংরক্ষণ করে রাখছে এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সময়ে সময়ে আপডেট দেবে। গ্রেফতারকৃত তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে দায়ের করা হলে, তাদের শাস্তি নির্ধারণের জন্য যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় বাস সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা শুরু করেছে। যাত্রীদের নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে, বাসে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণ এবং জরুরি কল সিস্টেমের কার্যকারিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অবশেষে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সকল স্তরকে একসাথে কাজ করে এই ধরনের অপরাধের শিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ভুক্তভোগীর পুনরুদ্ধার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য চলমান তদন্তের ফলাফল ও আদালতের রায়ের অপেক্ষা করা হচ্ছে।



