বিএনপি চেয়ারম্যান তরিক রহমান, স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান আজ সন্ধ্যায় ঢাকা শহরের স্টেট গেস্ট হাউস জামুনায় চিফ অ্যাডভাইজার প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সাক্ষাৎটি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দুপুরের পর ঘন্টার ৭টা ২৬ মিনিটে তরিক পরিবার জামুনা গেট থেকে প্রবেশ করে। নিরাপত্তা সংস্থার নির্দেশে সাংবাদিকদের গেটের বিপরীত দিকে রামনা পার্কের গেটের পাশে অপেক্ষা করতে বলা হয়।
প্রফেসর ইউনুসের সঙ্গে তরিকের শেষ সরাসরি সাক্ষাৎ গত বছর লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সময় দুইজনই একে অপরের রাজনৈতিক অবস্থান ও দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।
১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসন কাটিয়ে তরিক ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফিরে আসেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর তিনি ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে প্রফেসর ইউনুসকে ফোনে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অস্থায়ী সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।
দু’দিন পর, ৩১ ডিসেম্বর, পার্লামেন্টের প্রাঙ্গণে খালেদা জিয়ার নামাজ-এ-জনাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় তরিক ও প্রফেসর ইউনুসকে সংক্ষিপ্তভাবে একসঙ্গে দেখা যায়। উভয়েই শোক প্রকাশের মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন।
খালেদা জিয়া, যিনি দীর্ঘকালীন সময়ের পরে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর ফলে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় পদে শূন্যতা সৃষ্টি হয়।
বিএনপি ৯ জানুয়ারি তরিক রহমানকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তটি পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
সাময়িক সরকার তরিকের দেশে ফিরে আসা ও পার্টির নতুন নেতৃত্ব গঠনের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে। নিরাপত্তা সংস্থা গেটের আশেপাশে অতিরিক্ত রক্ষী ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে।
বিএনপি মিডিয়া সেল এই ঘটনাগুলোকে পার্টির পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক পুনরায় সংহতির সূচক হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তরিকের উপস্থিতি ও পার্টির নতুন নেতৃত্বের ঘোষণাকে দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন গতিশীলতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সরকারী পক্ষ থেকে তরিকের সঙ্গে প্রফেসর ইউনুসের সাক্ষাৎকে জাতীয় সংলাপের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনাকে দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নীতির সমন্বয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে তরিকের পরিবারকে নিরাপদে গৃহে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়। গেস্ট হাউসের নিরাপত্তা দল তাদের স্বাগত জানিয়ে যথাযথ সুরক্ষা প্রদান করে।
প্রফেসর ইউনুস তরিককে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সকল রাজনৈতিক শক্তির সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি তরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।
সাক্ষাতের পরে তরিক ও তার পরিবারকে গেস্ট হাউসের অতিথি কক্ষের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তারা বিশ্রাম গ্রহণের পাশাপাশি পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেন।
এই সাক্ষাৎটি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তরিকের ফিরে আসা, নতুন চেয়ারম্যানের ঘোষণাপত্র এবং সরকারী নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয় ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার দিক নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
পরবর্তী সময়ে তরিকের নেতৃত্বে বিএনপি কীভাবে রাজনৈতিক মঞ্চে পুনরায় সক্রিয় হবে এবং সরকারী নীতির সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় সাধন করবে, তা দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।



