ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার টিগার গ্লোবালের ট্যাক্স মামলায় সরকারকে সমর্থন জানিয়ে ঐতিহ্যবাহী অফশোর চুক্তি কাঠামোর ওপর কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে। মামলাটি টিগার গ্লোবালের ২০১৮ সালে ওয়ালমার্টের অধিগ্রহণে ফ্লিপকার্ট থেকে বেরিয়ে আসার সময় অর্জিত মূলধন লাভের ওপর ভারতীয় ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স থেকে রেহাই চাওয়ার প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত। কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, মোরিশাস ভিত্তিক সত্তাগুলোকে ভারত‑মোরিশাস ট্যাক্স চুক্তির সুরক্ষা দাবি করা যায় না, যদি লেনদেনটি প্রাথমিকভাবে ট্যাক্স এড়ানোর উদ্দেশ্যে গঠিত হয়।
সুপ্রিম কোর্টের দুইজন বিচারকের বেঞ্চে এই রায়ে ২০২৪ সালের দিল্লি হাই কোর্টের পূর্ববর্তী রায় বাতিল করা হয়েছে, যা ২০২০ সালে অথরিটি ফর অ্যাডভান্স রুলিংসের আদেশকে উল্টো করে টিগার গ্লোবালকে চুক্তি রিলিফের যোগ্যতা না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে রিভার্ট করেছিল। হাই কোর্টের রায়ে টিগার গ্লোবালকে ট্যাক্স এড়ানোর প্রাথমিক ইঙ্গিত না থাকলে চুক্তি রিলিফ পাওয়া যায় বলে অনুমান করা হয়েছিল, কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
এই রায়টি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি ভারতের ট্যাক্স রুলিংয়ে অফশোর ‘ট্রিটি‑রাউটিং’ কাঠামোর ব্যবহারকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দেয়। বহু বৈশ্বিক ফান্ডের জন্য ভারতকে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন বাজার হিসেবে দেখা হয়, এবং তাদের এক্সিট স্ট্রাটেজি প্রায়শই ট্যাক্স চুক্তির সুবিধা নিয়ে গঠন করা হয়। এখন এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে একই ধরনের কাঠামো ব্যবহার করে লেনদেনের ট্যাক্স রিস্ক বাড়তে পারে।
বিচারকরা উল্লেখ করেছেন, যখন কোনো লেনদেনের মূল উদ্দেশ্য ট্যাক্স এড়ানো বলে ধারণা করা হয়, তখন অগ্রিম রুলিং প্রক্রিয়া ব্যবহার করে চুক্তি সুরক্ষা চাওয়া যায় না। এই নীতি পূর্বে বহু অফশোর ফান্ডের জন্য ট্যাক্স পরিকল্পনার ভিত্তি ছিল, বিশেষ করে ভারত‑মোরিশাস চুক্তি, যা ঐতিহাসিকভাবে ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্সে রেহাই প্রদান করে। এখন এই নীতি স্পষ্টভাবে রূপান্তরিত হয়েছে, যা ট্যাক্স পরিকল্পনা ও কাঠামো পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করবে।
টিগার গ্লোবালের ফ্লিপকার্টে প্রথম বিনিয়োগ ২০০৯ সালে প্রায় ৯ মিলিয়ন ডলারে শুরু হয়, এবং পরবর্তী রাউন্ডে মোট প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এই দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বের শেষে, ২০১৮ সালে ওয়ালমার্ট ফ্লিপকার্টের অধিকাংশ শেয়ার কিনে নেয়, এবং টিগার গ্লোবালকে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলারের সমান মূল্যে শেয়ার বিক্রি করে।
মামলার মূল বিষয় হল টিগার গ্লোবাল কীভাবে এই বিনিয়োগকে মোরিশাসের সত্তার মাধ্যমে গঠন করেছিল, এবং সেই সত্তাগুলোকে ভারত‑মোরিশাস চুক্তির সুরক্ষা দাবি করে ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স থেকে রেহাই পেতে চেয়েছিল। কর কর্তৃপক্ষের মতে, এই কাঠামোটি মূলত ট্যাক্স এড়ানোর উদ্দেশ্যে তৈরি, ফলে চুক্তি রিলিফের যোগ্যতা নেই।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, অগ্রিম রুলিংয়ের মাধ্যমে ট্যাক্স রেহাই চাওয়া সম্ভব নয়, যদি লেনদেনের প্রকৃতি ট্যাক্স এড়ানোর জন্য গঠিত হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ফান্ডের জন্য ভারতীয় বাজারে বিনিয়োগের কাঠামো পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করবে, বিশেষ করে যখন ট্যাক্স চুক্তির সুবিধা ব্যবহার করে এক্সিট পরিকল্পনা করা হয়।
বাজার বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, এই রায়ের ফলে বিদেশি ফান্ডের জন্য ভারতীয় ইকুইটি বাজারে প্রবেশের খরচ বাড়তে পারে, এবং ট্যাক্স রিস্কের কারণে ডিলের মূল্যায়ন কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে, ভারতীয় সরকার ট্যাক্স রেভিনিউ বাড়াতে এবং অফশোর কাঠামোর অপব্যবহার রোধে আরও কঠোর নীতি গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, সুপ্রিম কোর্টের রায় টিগার গ্লোবালের জন্য বড় ক্ষতি হলেও, এটি ভারতের ট্যাক্স নীতি প্রয়োগে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য ট্যাক্স পরিকল্পনা ও চুক্তি রিলিফের ব্যবহার আরও সতর্কভাবে বিবেচনা করতে হবে, এবং অফশোর কাঠামোর মাধ্যমে ট্যাক্স এড়ানোর প্রচেষ্টা সীমিত হতে পারে। এই পরিবর্তনটি ভারতীয় বাজারের স্বচ্ছতা বাড়াতে পারে, তবে একই সঙ্গে বিদেশি পুঁজি প্রবাহে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করবে।



