গোলশান অফিসে আজ অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাচন স্টিয়ারিং কমিটির মুখপাত্র মাহদি আমিন লেভেল‑প্লেইং ফিল্ডের অবনতি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য বিতর্কিততা সম্পর্কে সতর্কতা জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, সকল রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা করা উচিত, তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই নীতি বিভিন্নভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে।
মাহদি আমিনের মতে, অন্যান্য দল ও তাদের কর্মীরা নির্বাচনী আচরণবিধি বারবার লঙ্ঘন করছে, আর নির্বাচন কমিশনের যথাযথ হস্তক্ষেপের অভাবকে তিনি উদ্বেগের কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু দল ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে ভোটারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ন করে।
বিএনপি প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট একটি দল গৃহে গৃহে গিয়ে নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে, যা স্বচ্ছন্দে ভোটার তথ্যের অপব্যবহার নির্দেশ করে। এ ধরনের কার্যক্রমকে তিনি ‘অসৎ উদ্দেশ্য’ বলে বর্ণনা করেছেন।
মাহদি আরও জানিয়েছেন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কিছু বিদেশি দেশে, যেমন বাহরাইন, ওমান, কুয়েত ও সৌদি আরব, নির্দিষ্ট দলের সক্রিয় সদস্যদের হাতে শত শত ভোটপত্রের মালিকানা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি এই ধরনের ‘সংগঠিত ভোট’কে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে উল্লেখ করেন।
একই সময়ে, তিনি উল্লেখ করেন, কিছু ক্ষেত্রে এক ব্যক্তির পোস্টাল ভোটপত্র অন্যের নম্বর ব্যবহার করে সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা নির্বাচনী নীতির সরাসরি লঙ্ঘন। এ ধরনের অনুশীলনকে তিনি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে সমালোচনা করেছেন।
বিএনপি প্রথমবারের মতো বিদেশি বাংলাদেশিদের জন্য পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থা চালু হওয়ায়, ভোটের ন্যায্যতা ও সমতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিদেশি ভোটারদের জন্যও সমান সুযোগ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা উচিত।
মাহদি ভোটার তালিকার নকশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, বিশেষ করে বিএনপি’র নির্বাচনী প্রতীক ‘ধানের গাঁথা’ ভোটপত্রে নিচের দিকে স্থাপন করা হয়েছে, যা ভোটারদের জন্য তা চিহ্নিত করা কঠিন করে তুলছে। তিনি উল্লেখ করেন, এমন নকশা ভোটারদের বিভ্রান্তি বাড়াতে পারে।
বিএনপি’র এই অভিযোগের পরেও, নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো স্পষ্ট মন্তব্য বা পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি। কমিশনের নীরবতাকে দলটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার ত্রুটির প্রতি অবহেলা হিসেবে দেখেছে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, নির্বাচন কমিশন সাধারণত সকল দলের অভিযোগের যথাযথ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ফলাফল প্রকাশ না করায় সংশয় বাড়ে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও সমান সুযোগের দাবি করে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো দলই একই রকম অভিযোগ তুলে ধরেনি।
বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি এই অভিযোগগুলো যথাযথভাবে সমাধান না হয়, তবে নির্বাচনের ফলাফলে বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে। তাই, সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার দ্রুত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।



