অ্যান্টি-করাপশন কমিশন (ACC) আজ সকাল ৯:৩০ টা থেকে প্রায় এক ঘন্টা ত্রিশ মিনিট সময় ধরে ঢাকা নর্থ সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এর প্রাক্তন মেয়র আতিকুল ইসলাম এর কন্যা ও শহরের প্রথম চিফ হিট অফিসার বুশরা আফরিনকে প্রশ্নোত্তর সেশনে ডেকেছে। প্রশ্নোত্তরটি কমিশনের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হয় এবং তদন্তের অংশ হিসেবে তার আর্থিক লেনদেন ও পদস্থানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এই সেশনের মূল উদ্দেশ্য হল আতিকুলের ওপর চলমান দুর্নীতি মামলায় সংশ্লিষ্ট পারিবারিক সদস্যদের ভূমিকা স্পষ্ট করা। সুতরাং, বুশরার উপস্থিতি মামলার বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বুশরা আফরিনকে প্রশ্নোত্তর কক্ষের দরজা থেকে বের হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথোপকথন করতে অস্বীকার করা হয়। তিনি সেশনের সময় কোনো মন্তব্য বা ব্যাখ্যা প্রদান করেননি এবং মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ থেকে বিরত ছিলেন। এই আচরণটি ACC-র পূর্ববর্তী জিজ্ঞাসাবাদে দেখা যাওয়া প্যাটার্নের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রায়শই প্রকাশ্য মন্তব্য এড়িয়ে যান। ফলে, বর্তমান তদন্তের অগ্রগতি মূলত কমিশনের অভ্যন্তরীণ নথি ও সাক্ষ্য সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল।
ACC-র পাবলিক রিলেশনস অফিসার অক্তারুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, বুশরার প্রশ্নোত্তর প্রায় এক ঘন্টা ত্রিশ মিনিট স্থায়ী হয়েছে এবং তিনি কোনো অতিরিক্ত তথ্য প্রদান করেননি। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রশ্নোত্তরের সময় সকল প্রাসঙ্গিক নথি ও রেকর্ড যাচাই করা হয়েছে। এছাড়া, ACC ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় হলে অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদ বা অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে। অফিসার অক্তারুলের এই মন্তব্যটি তদন্তের স্বচ্ছতা ও প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে ACC দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় সক্রিয়তা বৃদ্ধি করেছে। বিশেষত, ডিএনসিসি প্রাক্তন মেয়র আতিকুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক তদন্ত চালু হয়েছে। এই তদন্তের অংশ হিসেবে তার পারিবারিক সদস্যদের আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তি ও সরকারি পদে অধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ফলে, বুশরার প্রশ্নোত্তর সেশনটি বৃহত্তর তদন্তের একটি উপাদান হিসেবে কাজ করছে।
আতিকুল ইসলামকে ১৬ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে ঢাকা মোহাখালী ডিওএইচএস থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং বর্তমানে জেলখানায় আটক আছেন। তার গ্রেফতার মূলত নগদ লেনদেন ও সম্পত্তি লুকিয়ে রাখার অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে। গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তিনি বিভিন্ন আদালতে জবাবদিহি করার সুযোগ পেয়েছেন। বর্তমানে, তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং মামলার পরবর্তী ধাপের জন্য আদালতের নির্দেশের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
জানুয়ারি ৭ তারিখে একটি আদালত বুশরা ও তার মা শাইলা শাগুফতা ইসলামকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই নিষেধাজ্ঞা মূলত তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সম্ভাব্য প্রমাণের ক্ষতি রোধের জন্য দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে উভয়ই আদালতের অনুমোদন ছাড়া কোনো দেশে ভ্রমণ করতে পারবে না। এই পদক্ষেপটি ACC-র তদন্তে পারিবারিক সদস্যদের চলাচল সীমাবদ্ধ করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা যায়।
আতিকুলের বর্তমান জেলখানা অবস্থান ও তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার পাশাপাশি, বুশরার প্রশ্নোত্তর সেশনটি মামলার নতুন দিক উন্মোচনের সম্ভাবনা রাখে। যদি অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া যায়, তবে ACC অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদ বা সম্পত্তি জব্দের মতো পদক্ষেপ নিতে পারে। বর্তমানে, বুশরার ওপর কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তবে তার পারিবারিক সংযোগের কারণে তদন্তের দৃষ্টিভঙ্গি কঠোর।
ACC ভবিষ্যতে বুশরা ও তার পরিবারের ওপর আর কোন আইনি সীমাবদ্ধতা আরোপ করবে তা আদালতের রায়ের ওপর নির্ভরশীল। যদি আদালত অতিরিক্ত প্রমাণ পায়, তবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো বা জামিনের শর্ত পরিবর্তন করা হতে পারে। একই সঙ্গে, তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সময়মতো অবহিত করা হবে।
সারসংক্ষেপে, বুশরা আফরিনের প্রশ্নোত্তর সেশনটি ডিএনসিসি দুর্নীতি মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং ACC-র তদন্তের পরিধি বাড়াতে সহায়তা করবে। আদালত ও কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নজর রেখে, জনসাধারণকে স্বচ্ছ তথ্য প্রদান করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সকল আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।



