22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাক্রিকেটাররা এম নাজমুলের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত ম্যাচ বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত

ক্রিকেটাররা এম নাজমুলের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত ম্যাচ বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত

ঢাকার একটি হোটেলে বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্রীড়াবিদদের সমাবেশে স্পষ্ট করে জানানো হয় যে, ক্রিকেট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কেওয়াব) এর সদস্যরা এম নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করা পর্যন্ত দেশের কোনো আন্তর্জাতিক বা ঘরোয়া ম্যাচে অংশগ্রহণ বন্ধ রাখবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে চলমান বিরোধ এবং পূর্বে পরিচালকের মন্তব্যের ফলে সৃষ্ট অবিশ্বাস রয়েছে।

মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে একই দিনে নির্ধারিত প্রথম ম্যাচটি চট্টগ্রাম রয়্যালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মধ্যে হওয়ার কথা ছিল। তবে পূর্বে ঘোষিত নির্দেশনা অনুসারে কোনো দল মাঠে উপস্থিত হয়নি, ফলে ম্যাচটি বাতিল হয়ে যায়।

ম্যাচের সূচনা সময় দুপুর একটায় নির্ধারিত থাকলেও কেওয়াবের সমাবেশটি দেরি করে দুপুর একটায় অর্ধ ঘন্টা পরে, অর্থাৎ একটায় ত্রিশ মিনিটে শুরু হয়। সমাবেশে কেওয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন, পাশাপাশি দেশের তিনজন প্রাক্তন অধিনায়ক লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মেহেদি হাসান মিরাজ উপস্থিত ছিলেন। তদুপরি, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ও সেখানে অংশ নেন।

সমাবেশে ক্রীড়া কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানান যে, এম নাজমুলের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত ক্রিকেটের সব ধরণের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। এছাড়াও তারা কয়েকটি মূল কারণ উল্লেখ করেন, যার মধ্যে রয়েছে পরিচালকের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অসন্তোষ।

বিগত বুধবার পরিচালকের মন্তব্যগুলো তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। তিনি দলের বিশ্বকাপ যোগ্যতা না পাওয়া ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং উল্লেখ করেন যে, যদি খেলোয়াড়রা কোনো ফলাফল না দেয়, তবে ব্যয়িত কোটি কোটি টাকা ফেরত চাওয়া উচিত কিনা। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট এখনো কোনো আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করতে পারেনি, ফলে ব্যয়ের যথার্থতা নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে।

এই মন্তব্যের আগে, এম নাজমুল একবার প্রাক্তন অধিনায়ক তামিম ইকবালকে “ভারতীয় দালাল” বলে সমালোচনা করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেন। তামিমের প্রতি এই আক্রমণ ক্রীড়া জগতে ব্যাপক আলোচনা উস্কে দেয় এবং সমাবেশের আগে থেকেই উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।

রাত সাড়ে নয়টায় অনলাইন সমাবেশে কেওয়াবের সভাপতি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, যদি পরিচালকের পদত্যাগ না হয়, তবে তারা সব ধরনের ক্রিকেট বন্ধ রাখবে। এই ঘোষণার পর ক্রীড়াবিদ ও সমর্থকদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়ে যে, দ্রুত কোনো সমাধান না হলে দেশের ক্রিকেট ক্যালেন্ডার আরও বিশৃঙ্খল হয়ে উঠবে।

বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত বেসিক ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কিছু পরিচালক এবং খেলোয়াড়রা হোটেলে একত্রিত হয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। তবে সমাবেশের পরেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা গড়ে ওঠেনি এবং পদত্যাগের দাবি অব্যাহত থাকে।

এই পরিস্থিতিতে স্টেডিয়াম খালি রয়ে যায়, ভক্তদের হতাশা বাড়ে এবং আগামী ম্যাচের সূচি অনিশ্চিত থাকে। কেওয়াবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরবর্তী ম্যাচের সময়সূচি নির্ধারণের আগে পরিচালকের পদত্যাগ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

সারসংক্ষেপে, ক্রিকেটারদের সমাবেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, এম নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করা পর্যন্ত দেশের কোনো ক্রিকেট কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পূর্বের মন্তব্য, আর্থিক উদ্বেগ এবং তামিম ইকবালের প্রতি আক্রমণ এই বিরোধের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। বর্তমান সময়ে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে পরিচালকের পদত্যাগের উপর, অন্যথায় দেশের ক্রীড়া ক্যালেন্ডার অনিশ্চিতই থাকবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments