মিরপুর স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম রয়্যালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের প্রথম বিপিএল ম্যাচের সময়সূচি দুপুর একটায় নির্ধারিত ছিল, তবে টসের সময়সূচি সাড়ে বারোটায় নির্ধারিত থাকা সত্ত্বেও ম্যাচটি শুরু হয়নি। ফলে ম্যাচের অপেক্ষায় থাকা ভক্তদের মধ্যে বিস্ময় ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে।
ম্যাচের সূচনা সময় এবং টসের সময়সূচি পূর্বে ঘোষণা করা হয়েছিল, যা দর্শকদের পরিকল্পনা সাজাতে সহায়তা করেছিল। তবে ম্যাচের অমীমাংসিত অবস্থা এবং কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকায় ভক্তদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ে।
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের নতুন দল হওয়ায় ঢাকায় বসবাসরত নোয়াখালীভূক্ত ভক্তদের উপস্থিতি বিশেষভাবে বেশি ছিল। তারা দলকে সমর্থন জানাতে বড় সংখ্যায় স্টেডিয়ামে একত্রিত হয়েছিল, তবে ম্যাচ না হওয়ায় তাদের প্রত্যাশা ভেঙে যায়।
ক্রিকেট পরিচালনা সংস্থা কোয়াব বিসিবির পরিচালক এম. নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্যের পর, তিনি যে কোনো ধরনের খেলা বর্জনের ঘোষণা দেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে খেলোয়াড়দের মাঠে ফিরে আসার বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এবং ভক্তদের মধ্যে বিরোধের সঞ্চার ঘটে।
দর্শকরা মূলত ৪ ও ৫ নম্বর গেট ব্যবহার করে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন, তবে গেটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকজন ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। বন্ধ গেটের কারণে টিকিটের ফেরত ও প্রতিকার সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা হয়, যা স্টেডিয়ামের প্রবেশদ্বারকে ভিড়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে।
বহু ভক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান লক্ষ্য করেন, যা সম্ভাব্য ভাঙচুরের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা সত্ত্বেও কিছু দর্শক ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন, তবে নিরাপত্তা রক্ষীরা দৃঢ়ভাবে তা প্রতিহত করেন।
মাঠের ভিতরে স্থাপিত বিশাল স্ক্রিনে ম্যাচের বিলম্বের তথ্য প্রদর্শিত হলেও, স্টেডিয়ামের বাইরে অপেক্ষা করা ভক্তরা এই তথ্য পেতে ব্যর্থ হন। ফলে তথ্যের অভাবের কারণে ভক্তদের মধ্যে অতিরিক্ত অশান্তি দেখা যায়।
বনানীর কোয়াবের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় যে, নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করলে খেলোয়াড়রা মাঠে ফিরে আসবে না। এই ঘোষণার পর দর্শকদের মধ্যে ক্রোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে এবং তারা সংগঠনের প্রতি আস্থা হারায়।
বিসিবি পরে জানায় যে, এম. নাজমুল ইসলাম অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন, তবে তিনি এখনও পরিচালক পদে রয়েছেন। এই পরিবর্তন কিছুটা স্বস্তি দিলেও, ম্যাচের পুনরায় নির্ধারণের স্পষ্টতা এখনও অনুপস্থিত।
ম্যাচের স্থগিত হওয়ায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও সিলেট টাইটান্সের দ্বিতীয় ম্যাচের সময়সূচি ও ফলাফলও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে পুরো টুর্নামেন্টের সূচি প্রভাবিত হয়েছে এবং ভক্তদের প্রত্যাশা পুনরায় নির্ধারণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, মিরপুরে পরিকল্পিত বিপিএল ম্যাচের অপ্রত্যাশিত স্থগিত এবং সংস্থার অভ্যন্তরীণ বিবাদ ভক্তদের মধ্যে অসন্তোষের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে স্পষ্ট যোগাযোগ ও সময়মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণই ভক্তদের আস্থা পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি হবে।



