সৌদি আরবে বসবাসরত প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা নাগরিকের জন্য বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান প্রক্রিয়া দ্রুততর করার সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর দ্বারা জানানো হয়েছে। এই ঘোষণা ১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবালয়ের অফিসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেওয়া হয়। পাসপোর্টের দ্রুত ইস্যু রোহিঙ্গাদের আন্তর্জাতিক চলাচল সহজ করার পাশাপাশি বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্কের অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। আলোচনার মূল বিষয় ছিল রোহিঙ্গা পাসপোর্টের অগ্রগতি, শ্রমশক্তি রফতানি, পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশীয় জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি। এছাড়াও রিয়াদে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব প্রতিরক্ষা শো-তে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আমন্ত্রণপত্রসহ দু’দেশের স্বার্থ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করা হয়।
রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গা পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়ার পর উপদেষ্টা জানিয়েছেন যে পাসপোর্ট অধিদফতর ও সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কাজের গতি বাড়াতে ঢাকা থেকে একটি বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে এবং প্রক্রিয়ার ত্বরান্বিত সম্পন্নের জন্য উভয় পক্ষের সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। তবে আবেদনকারীর সংখ্যা তুলনায় পাসপোর্ট এনরোলমেন্টে উপস্থিতির হার কিছুটা কম, যা বিষয়টি ইতিমধ্যে সৌদি ইন্টারিয়র মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়ায় উপস্থিতির হ্রাসের কারণ নিয়ে বিশদ ব্যাখ্যা না দিয়ে, উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয় বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রোহিঙ্গা নাগরিকদের দ্রুত পাসপোর্ট প্রদান এবং তাদের বৈধ ভ্রমণ ও কাজের সুযোগ নিশ্চিত করা লক্ষ্য। একই সঙ্গে, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব প্রতিরক্ষা শো-তে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের জন্য সৌদি ইন্টারিয়র মন্ত্রীর আমন্ত্রণপত্র রাষ্ট্রদূত সরাসরি উপদেষ্টার হাতে তুলে দেন। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের কারণে উপদেষ্টা নিজে শো-তে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না বলে জানানো হয়। পরিবর্তে উপযুক্ত প্রতিনিধি পাঠানোর নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে, যাতে দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
এই বৈঠকের ফলাফল রোহিঙ্গা পাসপোর্টের দ্রুত ইস্যু এবং দু’দেশের কূটনৈতিক মেলামেশার নতুন পর্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে। পাসপোর্ট প্রদান প্রক্রিয়ার ত্বরান্বিত হওয়া রোহিঙ্গা শ্রমিকদের বৈধ কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সহজ করবে, যা উভয় দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মঙ্গলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে, রিয়াদের বিশ্ব প্রতিরক্ষা শো-তে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থিতি বাড়াবে এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক চুক্তির ভিত্তি স্থাপন করবে।



