ফরিদপুর-২ (সালথা‑নগরকান্দা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু, ১৫ জানুয়ারি দুপুরে সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের সিংহপ্রতাপ গ্রামে অনুষ্ঠিত দোয়া ও আলোচনা সভায় দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলবাজি বিষয়ে স্পষ্ট রূপরেখা দেন।
সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শামা ওবায়েদ তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন এবং জনসাধারণকে সতর্ক করেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি দুর্নীতির কাজে লিপ্ত হয়, তাকে অবিলম্বে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া উচিত।
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তিনি তার পিতার সন্তান হিসেবে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা দখলবাজি সহ্য করবেন না এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত কেউকে সমর্থন দেবেন না।
শামা ওবায়েদ আরও উল্লেখ করেন যে, অন্যের ভুলের দায়িত্ব তিনি নেবেন না এবং তার পিতার নামকে কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেবেন না। তার এই বক্তব্যে পারিবারিক গৌরব রক্ষার ইচ্ছা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।
বিএনপি দেশের মানুষকে সেবা প্রদান করার লক্ষ্য রাখে, এ কথা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দলের নামের মর্যাদা রক্ষার জন্য কোনো ধরনের অপবাদ সহ্য করবেন না বলে দৃঢ় অবস্থান নেন। তিনি ধানের শীষকে পবিত্র প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে, এই প্রতীকের কোনো অপবিত্রতা না ঘটার আহ্বান জানান।
বক্তৃতার মাঝখানে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করেন এবং বলেন, ২০০১ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে সালথা উপজেলা গঠন করেন। তিনি এই উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা উল্লেখ করেন।
তারপর শামা ওবায়েদ জানান, তার পিতা, মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমান, যিনি একসময় মন্ত্রী ছিলেন, তার নেতৃত্বে সালথা উপজেলা পরিষদ গঠিত হয়। এই তথ্যের মাধ্যমে তিনি পারিবারিক ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক সংযোগকে তুলে ধরতে চান।
বক্তা তার পিতার স্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করেন এবং উপস্থিত সবাইকে তার সুস্থতার জন্য দোয়া করতে অনুরোধ করেন। এই ব্যক্তিগত আবেদনটি সভার আধ্যাত্মিক পরিবেশকে আরও গাঢ় করে তুলেছে।
সালথা অঞ্চলে একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়, যেখানে দরিদ্র জনগণের জন্য স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে। এই প্রকল্পটি স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে স্থানীয় উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
শিক্ষা ক্ষেত্রেও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের কথা বলা হয়; বিশেষ করে যুবক ও নারীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে শামা ওবায়েদ জানান। তিনি স্থানীয় যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠা পরিকল্পনা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে উপস্থিত সবাই একত্রে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাতের জন্য প্রার্থনা করেন, যা রাজনৈতিক সমাবেশের ধর্মীয় দিককে জোরদার করে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, শামা ওবায়েদের এই কঠোর অবস্থান বিএনপি-কে দুর্নীতি বিরোধী পার্টি হিসেবে উপস্থাপন করতে সহায়তা করবে এবং আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে ভোটারদের মধ্যে বিশ্বাস জোরদার করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিরোধী দলগুলো এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক রণকৌশল হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।



