যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ক্রীড়া লিগগুলো দীর্ঘদিন ধরে সমতা (parity) বজায় রাখাকে ভক্তদের আগ্রহ ও আর্থিক স্থায়িত্বের মূল চাবিকাঠি বলে দাবি করে আসছে। তবে কোনো বেতন সীমা বা লাক্সারি ট্যাক্স না থাকা ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমতা বাড়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে, যা এই ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
ডেভিড স্টার্ন, যিনি ১৯৮৪ সালে এনবিএর কমিশনার হন, তার শুরুর দিনগুলোতে একটি রসিকতা বলতেন যে তার কাজ মূলত বস্টন ও লস এঞ্জেলেসের মধ্যে চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি বিতরণ করা। তার শাসনামলে প্রথম পাঁচটি এনবিএ ফাইনালে সেল্টিক্স ও লেকার্সের দলগুলোই শিরোপা জিতেছিল, প্রত্যেক দল একবারই চূড়ান্ত সিরিজে না গিয়ে। এই ঐতিহাসিক সমতা স্মরণ করে, বর্তমান কমিশনার অ্যাডাম সিলভার ২০২৫ সালের এনবিএ ফাইনালের আগে একটি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন যে লিগটি সাত বছর ধারাবাহিকভাবে ভিন্ন চ্যাম্পিয়ন তৈরি করেছে। তিনি বলেন, লিগের লক্ষ্য হল সব ত্রিশটি দলকে সমানভাবে প্রতিযোগিতার সুযোগ প্রদান করা, যাতে কোনো একক দলই দীর্ঘমেয়াদে আধিপত্য না করে।
সিলভার আরও স্পষ্ট করেন যে তারা প্রতিটি মৌসুমে ভিন্ন চ্যাম্পিয়ন নিশ্চিত করার দিকে নয়, বরং সুযোগের সমতা নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগী। ২০১১ সালে এনএফএল কমিশনার রজার গুডেলও একই রকম দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে প্রতিটি ফ্যানের মনে থাকে যে তার দল সুপার বোল জয়ের সম্ভাবনা রাখে। এই ধরনের সমতা দর্শকদের উচ্ছ্বাস বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি যুক্তি দেন।
মেজর লিগ বেসবলে, লস এঞ্জেলেস ডজার্স ২০২৫ মৌসুমের আগে আবারও বিশাল ট্যালেন্ট সংগ্রহ করে, যা পুনরায় শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। তবে কমিশনার রব ম্যানফ্রেড স্বীকার করেন যে লিগের মধ্যে সম্পদের বৈষম্য নিয়ে মালিক ও ভক্ত উভয়েরই উদ্বেগ রয়েছে। তিনি বলেন, লিগের স্বাস্থ্যের জন্য সমতা বজায় রাখা জরুরি, যদিও কিছু দল অন্যদের তুলনায় বেশি সম্পদশালী।
এইসব মন্তব্যের বিপরীতে, প্রিমিয়ার লিগের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান দেখায় যে শীর্ষ দলগুলোর জয়-পরাজয়ের পার্থক্য ক্রমশ কমে আসছে। কোনো বেতন ক্যাপ না থাকলেও, টিমগুলোকে সমানভাবে প্রতিযোগিতায় টানতে দেখা যাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের লিগগুলোতে প্রচলিত আর্থিক নিয়ন্ত্রণের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে প্রিমিয়ার লিগের এই প্রবণতা ভক্তদের জন্য নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে, কারণ প্রতিটি ম্যাচে ফলাফল পূর্বাভাস করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। যদিও লিগে কোনো আনুষ্ঠানিক বেতন সীমা নেই, তবে টেলিভিশন চুক্তি, স্পনসরশিপ এবং গ্লোবাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আয় সমানভাবে ভাগ করা হচ্ছে, যা দলগুলোর আর্থিক ক্ষমতাকে সমান করে তুলছে।
অন্যদিকে, আমেরিকান লিগগুলো এখনও বেতন ক্যাপ, ড্রাফ্ট এবং রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে সমতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ব্যবস্থা গুলোকে সমতা অর্জনের জন্য অপরিহার্য বলে তারা দাবি করে, যদিও প্রিমিয়ার লিগের উদাহরণ দেখায় যে আর্থিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই সমতা সম্ভব।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ক্রীড়া লিগগুলো সমতা বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন নিয়ম প্রয়োগ করে, তবে ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগের উদাহরণ দেখায় যে বেতন ক্যাপের অনুপস্থিতিতেও সমতা বৃদ্ধি পেতে পারে। এই বিষয়টি ভবিষ্যতে ক্রীড়া অর্থনীতির নীতি নির্ধারণে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করতে পারে।
প্রিমিয়ার লিগের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে শীর্ষ দলগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, যা ভক্তদের জন্য আরও উত্তেজনাপূর্ণ গেমপ্লে নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে, এনবিএ, এনএফএল এবং এমএলবির শিডিউলও শীঘ্রই প্রকাশিত হবে, যেখানে সমতা বজায় রাখার জন্য নতুন নিয়মাবলী প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।



