ওয়াশিংটন‑এর ওভাল অফিসে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি দ্বিপক্ষীয় বিলের স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। স্বাক্ষরের সময় তিনি নিজের ডেস্কে পাঁচ‑ছয় দিন পুরোনো দুধের একটি বড় বোতল রাখেন, যা মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই কাজটি নতুন দুধ সরবরাহ নীতির প্রচার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
বিলটি ‘হোল মিল্ক ফর হেলদি কিডস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত, যার মাধ্যমে পাবলিক স্কুলে পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ এবং ২% ফ্যাটযুক্ত দুধ পুনরায় সরবরাহের অনুমতি দেয়া হবে। পূর্বে বারাক ওবামা সরকারের সময় গৃহীত বিধিনিষেধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে কেবল লো‑ফ্যাট বা স্কিমল দুধই দেওয়া হতো। নতুন আইনটি ২০২৫ সালের শেষের দিকে কংগ্রেসের উভয় চেম্বারে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের বহু সদস্য এবং দুগ্ধ শিল্পের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্পের ডেস্কে রাখা দুধের বোতলটি দেখিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, এটি পাঁচ‑ছয় দিন আগে থেকে ওভাল অফিসে রাখা আছে। তিনি এই মন্তব্যের সঙ্গে হালকা হাসি-ঠাট্টা করেন, যা উপস্থিত সাংবাদিক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে হাসির স্রোত তৈরি করে।
ট্রাম্পের মতে, বোতলটি সম্পূর্ণ তাজা নয়, তবে “আধা‑তাজা” অবস্থায় রয়েছে। তিনি মিডিয়ার কর্মীদের সরাসরি বোতল থেকে দুধ চুমুক দিতে আমন্ত্রণ জানান, যাতে তারা নিজেরা স্বাদ পরীক্ষা করতে পারে। এই প্রস্তাবটি উপস্থিতদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে; কেউ হেসে ওঠে, আবার কেউ বিস্ময় প্রকাশ করে।
প্রেসিডেন্ট অতিরিক্তভাবে শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, “পুরোনো সময়ে আমরা সবাই এক বোতল দুধ ভাগ করে পান করতাম।” তিনি স্বীকার করেন, আজকাল তা আর সাধারণ নয়, তবে যদি কেউ বিশ্বাস করে তবে কোনো বাধা নেই। এই মন্তব্যটি নীতির মানবিক দিকটি তুলে ধরার উদ্দেশ্য বলে অনুমান করা যায়।
‘হোল মিল্ক ফর হেলদি কিডস অ্যাক্ট’ এর কার্যকর হওয়ার ফলে পূর্বে প্রযোজ্য ফ্যাট‑মুক্ত দুধের বাধা বাতিল হবে। ফলে স্কুলগুলোতে পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধের সরবরাহ পুনরায় শুরু হবে, যা দুগ্ধ শিল্পের জন্য নতুন বাজার খুলে দেবে। শিল্প প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যে এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন।
বিলটি পার্লামেন্টের উভয় শাখায় একমত ভোটে পাশ হওয়ায় রাজনৈতিক সমর্থনও দৃঢ় হয়েছে। তবে কিছু স্বাস্থ্য নীতি বিশ্লেষক এই পরিবর্তনকে পুনরায় মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধের স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতে কংগ্রেসের অতিরিক্ত সংশোধনী বা নির্দেশিকা আসতে পারে।
ট্রাম্পের দুধের বোতল প্রদর্শন এবং তার রসিক মন্তব্যকে রাজনৈতিক যোগাযোগের একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি নতুন নীতির গুরুত্বকে দৃশ্যমানভাবে তুলে ধরতে চান, একই সঙ্গে মিডিয়ার মনোযোগ আকর্ষণ করে নীতির প্রচার বাড়াতে চেয়েছেন। এই ধরনের প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড প্রেসিডেন্টের নীতি প্রচারের পদ্ধতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিলের কার্যকর হওয়ার পর, যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ দ্রুত দুধ সরবরাহের পরিকল্পনা তৈরি করবে। স্কুলগুলোকে নতুন মানদণ্ড অনুযায়ী দুধের গুণগত মান ও পরিমাণ নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, দুগ্ধ উৎপাদনকারীদের থেকে সরবরাহ চেইন সমন্বয় এবং মূল্য নির্ধারণে সমন্বয় সাধন করা হবে।
এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতি ও আন্তর্জাতিক দুগ্ধ বাজারের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধের পুনঃপ্রবর্তন দেশীয় দুগ্ধ উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করবে, যা রপ্তানি সম্ভাবনাও বাড়াতে পারে। রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপটি তার সমর্থকদের কাছে নীতি-নির্ধারণে সক্রিয়তা প্রদর্শন করে, আর বিরোধীরা স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। ভবিষ্যতে কংগ্রেসের অতিরিক্ত আলোচনা ও সংশোধনী এই নীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।



