ইরানের বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর প্রধান ক্যারিয়ার ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি ১৪ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে একই সঙ্গে তিনটি আরলে বার্ক শ্রেণীর ডেস্ট্রয়ারকে একই গন্তব্যে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যারিয়ারটি ভারত মহাসাগর অতিক্রম করে আরব সাগরে পৌঁছাতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় নেবে। গন্তব্যটি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীনে থাকা অঞ্চল, যেখানে ক্যারিয়ার এবং ডেস্ট্রয়ারগুলোকে সম্ভাব্য সামরিক কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ বা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।
দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থানকালে আব্রাহাম লিংকন নিয়মিত প্রশিক্ষণ চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ক্যারিয়ার থেকে এফ-৩৫সি স্টেলথ যুদ্ধবিমান উড়িয়ে ফ্লাইট ড্রিল এবং সরাসরি গোলাবর্ষণ মহড়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে নৌবাহিনীর প্রস্তুতি এবং আঞ্চলিক উপস্থিতি দৃঢ় করা হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।
ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রতিবাদকারীদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখে জানান, ইরানে সহায়তা আসছে এবং তেহরানের কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই মন্তব্যের সঙ্গে ট্রাম্পের ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা প্রতিবাদকারীদের হত্যার বন্ধ হওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়।
ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা এখনও নির্ধারিত হয়নি; তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে ইঙ্গিত দেন। একই সময়ে, ওয়াশিংটন ভিত্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের বর্তমান অস্থিরতা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের পতনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে। তিনি যোগ করেন, কোনো শাসনব্যবস্থা ব্যর্থ হতে পারে এবং তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই বিবৃতি ও ক্যারিয়ার স্থানান্তরের সংযোগকে বিশ্লেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন। ক্যারিয়ার এবং ডেস্ট্রয়ারগুলোকে আরব সাগরে পাঠানো হলে, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রদর্শন এবং ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর চাপ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের সরকার এই ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপকে জাতীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করতে পারে এবং অঞ্চলে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। তেহরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সামরিক পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া পরস্পরের সঙ্গে জটিল সম্পর্ক গড়ে তুলবে, যা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রভাবিত করতে পারে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর চলাচল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি, তবে ক্যারিয়ার এবং ডেস্ট্রয়ারগুলোর গতি ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ইঙ্গিত দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য সংকটের মোকাবিলায় প্রস্তুত। ইরানের বিক্ষোভের অবস্থা, তেহরানের নিরাপত্তা নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল একসঙ্গে গঠিত হবে এই অঞ্চলের পরবর্তী রাজনৈতিক গতিপথ।
সারসংক্ষেপে, দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের স্থানান্তর এবং সংশ্লিষ্ট নৌবাহিনীর কার্যক্রম ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক অবস্থানকে পুনর্গঠন করার লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যায়। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, এবং পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও ইরানের অভ্যন্তরীণ গতিবিধি কীভাবে বিকশিত হবে তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।



