বিএনপি স্ট্যান্ডিং কমিটি সদস্য সালাহুদ্দিন আহমেদ আজ ঢাকার আগারগাঁও ইসিসি অফিসে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর পোস্টাল ভোটের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইলেকশন কমিশনকে ব্যাখ্যা দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ভোটারদের জন্য প্রেরিত পোস্টাল ব্যালটের প্রস্তুতি, প্রেরণ ও গণনা প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্টতা দাবি করেছেন।
সালাহুদ্দিন এবং তিনজন সহবিএনপি প্রতিনিধি সিইসির সঙ্গে বৈঠকে বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ভোটিং পদ্ধতি নিয়ে “গুরুতর উদ্বেগ” প্রকাশ করেন। তারা উল্লেখ করেন, এই পদ্ধতি প্রথমবারের মতো প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
বৈঠকে তিনি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকা ভিডিওর উল্লেখ করেন, যেখানে কিছু এলাকায় একক ব্যালট পৌঁছেছে, অন্যদিকে কিছু স্থানে ২০০ থেকে ৩০০টি ব্যালটের বড় গুচ্ছ একসঙ্গে পৌঁছেছে বলে দেখা যায়। এই বৈষম্যমূলক ডেলিভারি পদ্ধতি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এছাড়া তিনি জানান, কিছু ক্ষেত্রে ব্যালট আটক করা হয়েছে এবং গণনা সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়নি। তিনি ইসিসিকে এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করে বলার জন্য অনুরোধ করেন, যাতে ভোটারদের অধিকার রক্ষিত হয়।
সালাহুদ্দিন স্বীকার করেন, পোস্টাল ভোটিং বিদেশে প্রথমবারের মতো চালু হওয়ায় কিছু ত্রুটি হতে পারে, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে বিএনপি এই ত্রুটিগুলোর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তার রাজনৈতিক প্রভাব কমে যাচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কিছু পদক্ষেপ নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন; এই সন্দেহ এখন কেবল ধারণা নয়, বাস্তব প্রমাণে রূপ নিচ্ছে।
বিএনপি দল ইসিসি থেকে ব্যালট কীভাবে বিদেশে পাঠানো হয়, বিদেশি বাংলাদেশি কীভাবে ভোট দেয় এবং স্ক্যান করে, এবং কেন একক স্থানে বড় গুচ্ছ ব্যালট পৌঁছায়—এই প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট উত্তর চায়। এছাড়া তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই প্রক্রিয়ায় ভূমিকা সম্পর্কে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দাবি করেন।
ভোটার স্লিপের নকশা সম্পর্কেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুসারে স্লিপে কেবল ব্যালট নম্বর ও প্রার্থীর নাম বা প্রতীক থাকা উচিত, কোনো দলীয় লোগো, ছবি বা নাম না থাকা উচিত।
সালাহুদ্দিনের মতে, প্রক্রিয়াটিকে সহজ ও স্বচ্ছ করা হলে বিদেশে বসবাসকারী ভোটারদের অংশগ্রহণের হার বাড়বে এবং ভোটের বৈধতা নিশ্চিত হবে।
বিএনপি প্রতিনিধিদলের মধ্যে দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জাবিয়ুল্লাহ এবং প্রাক্তন ইসিসি সেক্রেটারি ড. মোহাম্মদ (নাম সম্পূর্ণ উল্লেখ নেই) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইসিসি থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে দলটি দ্রুত ব্যাখ্যা পাওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে।



