নেসল গ্রুপের শিশু খাবার বিভাগে সেরুলাইড নামক বিষাক্ত পদার্থের সম্ভাব্য উপস্থিতি সন্দেহের কারণে বিশ্বব্যাপী ৫৩টি দেশে পণ্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া ও আফ্রিকায় স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের নতুন প্রধান নির্বাহী, নাভরাতিল, যিনি মাত্র কয়েক মাস আগে দায়িত্বে এসেছেন, তিনি এই সংকট মোকাবেলায় তৎপরতা দেখিয়ে কোম্পানির সুনাম রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি অভিভাবক, স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য ক্রেতাদের মধ্যে সৃষ্ট উদ্বেগের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেভেম্বর মাসে নেদারল্যান্ডসের একটি কারখানায় সেরুলাইডের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর নেসলে দ্রুতই ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে পণ্য প্রত্যাহার শুরু করে। এই পদক্ষেপের পর জানুয়ারিতে শেয়ার মূল্যে প্রায় ৪ শতাংশের পতন দেখা যায়, তবে বুধবার রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী শেয়ার মূল্য ০.৬ শতাংশ বাড়ে।
সাপ্লাই চেইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেসলে এক সরবরাহকারীর থেকে আরএ তেল গ্রহণ বন্ধ করে অন্য নিরাপদ সরবরাহকারীর তেল ব্যবহার শুরু করেছে। তেল সরবরাহকারী কোন কোম্পানি তা প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীকে আরএ তেল উৎপাদনকারী ডিএসএম-ফার্মেনিশ উল্লেখ করেছে, যিনি নিশ্চিত করেন যে নেসলের প্রত্যাহার তাদের পণ্যে কোনো প্রভাব ফেলেনি।
চীনের বড় গ্রাহক ক্যাবিও বায়োটেক, যেটি নেসলের সরবরাহ শৃঙ্খলে অংশ, জানুয়ারি ৮ তারিখে শেয়ার মূল্যে প্রায় ১২ শতাংশের পতন দেখেছে। ক্যাবিও এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে তারা বড় গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণের লক্ষ্য ঘোষণা করেছে।
নেসলের এই প্রত্যাহার কোম্পানির বৈশ্বিক বাজারে অবস্থানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে চীনসহ প্রধান বাজারে নেসলের শেয়ার হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে কোম্পানি দীর্ঘদিনের শীর্ষস্থানীয় অবস্থান বজায় রেখেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের সাপ্লাই চেইন সংকটের ফলে গ্রাহকের আস্থা ক্ষয় হতে পারে এবং বিক্রয় হ্রাসের ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে, নেসলের দ্রুত পদক্ষেপ এবং সরবরাহকারী পরিবর্তন ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যার প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে এখনো এই প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট ক্ষতি প্রকাশিত হয়নি, তবে পণ্যের পুনরায় উৎপাদন ও বিক্রয় পুনরুদ্ধার পর্যন্ত সময়সীমা বিবেচনা করলে স্বল্পমেয়াদে মুনাফা হ্রাসের সম্ভাবনা উঁচু।
নেসলের সরবরাহ শৃঙ্খল বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত, ফলে ইউরোপ থেকে ব্রাজিল পর্যন্ত দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এই গ্লোবাল নেটওয়ার্কের সুবিধা ও ঝুঁকি উভয়ই স্পষ্ট হয়েছে।
কোম্পানি ইতিমধ্যে নিরাপদ তেল ব্যবহার করে উৎপাদন পুনরায় শুরু করেছে এবং প্রত্যাহারকৃত পণ্যের বিকল্প সরবরাহের পরিকল্পনা চালু করেছে। এই পদক্ষেপগুলো বাজারে পুনরায় আস্থা জোগাতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, নেসলের শেয়ার মূল্যের সামান্য বৃদ্ধি সংকেত দেয় যে বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী শক্তি ও পুনরুদ্ধার ক্ষমতায় আস্থা রাখে। তবে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি, কারণ ভবিষ্যতে অতিরিক্ত রিকল বা নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়ে গেছে।
সারসংক্ষেপে, নেসলের ইনফ্যান্ট ফর্মুলা রিকল তার বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে চীন ও অন্যান্য বড় বাজারে বিক্রয় ও ব্র্যান্ড ইমেজে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে। তবে দ্রুত সরবরাহকারী পরিবর্তন, নিরাপদ উৎপাদন পুনরায় শুরু এবং শেয়ার মূল্যের স্থিতিশীলতা কোম্পানির সংকট মোকাবেলায় ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে। ভবিষ্যতে সাপ্লাই চেইন নিরাপত্তা ও গুণমান নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা দেখা যাবে।



