সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আজ একটি আদেশ জারি করে পবনা-১ ও পবনা-২ নির্বাচনী এলাকা ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন পরিচালনার কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা নেই বলে ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অংশ হিসেবে দুইটি আসন নির্ধারিত সময়ে ভোটের জন্য প্রস্তুত হবে।
আদেশটি চার সদস্যের একটি বেঞ্চের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যার প্রধান ছিলেন চিফ জাস্টিস জুবায়ের রহমান চৌধুরী। বেঞ্চটি লীভ-টু-অ্যাপিল পিটিশন শোনার পর উচ্চ আদালতের পূর্ববর্তী রায়কে অস্থায়ীভাবে স্থগিত করে এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা আরোপকারী কোনো আইনি বাধা না থাকার কথা স্পষ্ট করেছে।
বেঞ্চের নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সাথিয়া উপজেলা পবনা-১ আসনের অন্তর্ভুক্ত হবে, আর সুজনগর ও বেরা উপজেলা একসাথে পবনা-২ আসনের অংশ গঠন করবে। এই বিভাজনটি নির্বাচন কমিশনের ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত গেজেটের সীমানা অনুসারে নির্ধারিত হয়েছে, যা পূর্বে সীমা নির্ধারণের কাজের ফলাফল।
পূর্বে উচ্চ আদালত ৪ সেপ্টেম্বরের গেজেট নোটিফিকেশনকে অবৈধ ঘোষণা করে ছিল, যেখানে পবনা-১ থেকে চারটি ইউনিয়ন ও বেরা পৌরসভা পবনা-২-এ যুক্ত করা হয়েছিল। সেই রায়ের বিরোধিতা করে পবনা-১ আসনের জামায়াত-ইসলামী প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নাজিবুর রহমান মোমেন লীভ-টু-অ্যাপিল পিটিশন দায়ের করেন। তিনি নির্বাচনী কার্যক্রমে আরোপিত স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ চান।
মোমেনের পিটিশনের প্রতিনিধিত্ব করেন ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক, যিনি আজকের শুনানিতে তার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। পিটিশনের মূল দাবি হল নির্বাচন কমিশনকে দুইটি পবনা আসনে আরোপিত স্থগিতাদেশ বাতিল করে ভোটদান প্রক্রিয়া চালু করতে নির্দেশ দেওয়া।
ইতিপূর্বে, ১০ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন আপিল বিভাগের পূর্ববর্তী আদেশের ভিত্তিতে পবনা-১ ও পবনা-২-এ নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই স্থগিতাদেশের পেছনে ছিল ১৩তম সংসদ নির্বাচনের সীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত আপিল বিভাগের রায়, যা নির্বাচনী এলাকার পুনর্গঠনকে নির্দেশ করে।
এর আগের ৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগ ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত সংশোধিত গেজেট নোটিফিকেশনকে স্থগিত করে, যা দুইটি আসনের সীমানা পুনরায় নির্ধারণ করেছিল। এই স্থগিতাদেশের কার্যকারিতা আজ পর্যন্ত বজায় রয়েছে, এবং উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা লীভ-টু-অ্যাপিলের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে।
সুপ্রিম কোর্টের এই নতুন আদেশের ফলে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভোটদান প্রক্রিয়া পুনরায় চালু হতে পারে, যা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা। পবনা-১ ও পবনা-২ উভয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো এখন পুনরায় নির্বাচনী প্রচার চালু করতে পারবে এবং ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ পাবে।
অপিলের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা চললেও, আদালতের বর্তমান অবস্থান নির্বাচনী সময়সূচি বজায় রাখার দিকে ইঙ্গিত দেয়। যদি আপিলের ফলাফল বর্তমান আদেশকে সমর্থন করে, তবে নির্বাচন কমিশন দ্রুতই ভোটের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। অন্যথায়, আবারও স্থগিতাদেশের সম্ভাবনা থাকে, যা ভোটের সময়সূচি পুনরায় সমন্বয় করতে বাধ্য করবে।
সারসংক্ষেপে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পবনা-১ ও পবনা-২-এ ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের জন্য কোনো আইনি বাধা না থাকার ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিশ্চিত করেছে, তবে শেষ রায়ের অপেক্ষা চলমান থাকায় রাজনৈতিক দল ও ভোটার উভয়েরই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।



