ঢাকা, মোঘবাজারে জামায়েত‑ইসলামি জোটের কেন্দ্রীয় অফিসে আজ বিকেলে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জোটের শীর্ষ নেতারা আসন্ন নির্বাচনের সিট‑শেয়ারিং নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ এবং একক বক্স নীতি নিয়ে সমন্বয় সাধন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়েত‑ইসলামি নায়েব‑এমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বাংলাদেশ খলাফত মজলিসের আমির মমুনুল হক, এনসিপি কনভেনার নাহিদ ইসলাম, বিবিপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং খলাফত মজলিসের সেক্রেটারি জেনারেল আহমদ আবদুল কাদের। অন্যান্য জোটের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের ছবি পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে উপরে উল্লেখিত নেতাদের পাশাপাশি অন্যান্য অংশগ্রহণকারীর ছবি দেখা যায়। ছবিটি জোটের সমন্বয় ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে শেয়ার করা হয়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। জোটের অভ্যন্তরে এই অনুপস্থিতি নিয়ে কিছু নেতার মন্তব্য শোনা গিয়েছে, তবে তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেনি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পরে একটি প্রেস রিলিজ প্রকাশ করে জানায় যে, এখনও আলোচনা চলছে এবং কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে, “পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যেখানে চূড়ান্ত শব্দ প্রদান করা যায়।”
প্রেস রিলিজে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সকল দিক থেকে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এই আলোচনায় সিট‑শেয়ারিং, নির্বাচনী জোটের কাঠামো এবং ভোটারদের জন্য একক বক্সের সম্ভাবনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জনমতের মধ্যে একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে যে, ইসলামিক শক্তিগুলোর মধ্যে একক বক্স নীতি গৃহীত হলে ভোটারদের জন্য একটি পরিষ্কার বিকল্প তৈরি হবে। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই প্রত্যাশা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করে, বলেন যে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা যথাযথ নয়।
প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে, “বিভিন্ন মাত্রার এবং বহু পার্টির আলোচনায় নেতারা জড়িত আছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং অন্যান্য দলগুলো পরিস্থিতি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন জাতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে।” এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, জোটের ভিতরে সমন্বয় প্রক্রিয়া এখনও চলমান।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি এই জোট একক বক্সের মাধ্যমে একত্রিত হয়, তবে তা নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। সিট‑শেয়ারিং নিয়ে সমঝোতা হলে জোটের বিভিন্ন দল একসাথে প্রতিদ্বন্দ্বী পার্টিগুলোর মুখোমুখি হতে পারবে।
অন্যদিকে, জোটের অভ্যন্তরে সিট‑শেয়ারিং নিয়ে মতবিরোধের সম্ভাবনা এখনও রয়ে গেছে। কিছু নেতার মতে, প্রতিটি দলের নিজস্ব ভিত্তি ও ভোটার গোষ্ঠী রয়েছে, যা একত্রিত করা সহজ নয়। তাই আলোচনার সময় পারস্পরিক সমঝোতা ও সমন্বয় প্রয়োজন।
বৈঠকের পর থেকে জোটের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ জানিয়েছে, সকল দল একত্রে কাজ করে শেষ পর্যন্ত একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা জনসাধারণের কাছে জানানো হবে এবং নির্বাচনী কৌশল অনুযায়ী কার্যকর করা হবে।



