সৌদি আরবের আল‑ইত্তিহাদ ক্লাবের সভাপতি আনমার আল‑হাইলি সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, লিওনেল মেসিকে দলের জার্সিতে দেখতে তারা বিশাল আর্থিক প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত, এমনকি আজীবন চুক্তি পর্যন্ত বিবেচনা করা হচ্ছে। মেসি ২০২৩ সালে পিএসজি ত্যাগের পর থেকে আল‑ইত্তিহাদ তার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তাব দিতে দ্বিধা করেননি। হাইলি জোর দিয়ে বলছেন, মেসির মতো বিশ্বমানের তারকা না থাকলে লিগের আন্তর্জাতিক মর্যাদা অর্জন কঠিন হবে। তাই, তিনি বলছেন, মেসিকে সৌদি মাঠে দেখার স্বপ্ন এখনো তিক্ত নয়, বরং বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।
মেসি পিএসজি ছাড়ার পর আল‑ইত্তিহাদ প্রথমে তাকে বছরে ৪০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দেয়। এই প্রাথমিক অফারটি ইতিমধ্যে ইউরোপীয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্লাবগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চের কাছাকাছি ছিল এবং মেসির ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে তাকে আকৃষ্ট করার জন্য যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়েছিল। তবে আল‑ইত্তিহাদের পরিকল্পনা এখানেই থেমে না থেকে, মেসিকে আকর্ষণ করার জন্য আর্থিক সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
পরবর্তীতে আল‑ইত্তিহাদ প্রস্তাবটি ধীরে ধীরে বাড়িয়ে ১.৪ বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত নিয়ে যায়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় বিশ হাজার কোটি টাকা সমান। এই পরিমাণকে ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ প্রস্তাব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ক্লাবের আর্থিক ক্ষমতা ও সৌদি প্রো লিগের উচ্চাভিলাষের স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। হাইলি উল্লেখ করেন, এই পরিমাণের প্রস্তাব কোনো ক্লাবের জন্যই অস্বাভাবিক, তবে মেসির মতো খেলোয়াড়ের জন্য এটি প্রয়োজনীয় হতে পারে।
তবুও মেসি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিকে বেছে নেন এবং সেখানে তার চুক্তি ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন। ইন্টার মায়ামিতে তার উপস্থিতি মার্কিন সকারের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে তুলেছে এবং ক্লাবের জন্য নতুন বাজার খুলে দিয়েছে। মেসি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পাশাপাশি তার পরিবারকে আরও স্থিতিশীল পরিবেশে রাখতে চেয়েছেন, যা আল‑ইত্তিহাদের প্রস্তাবের তুলনায় তার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আল‑হাইলি ব্যাখ্যা করেন, মেসির সিদ্ধান্তের মূল কারণ তার পারিবারিক সুখ, যা তিনি আর্থিক সুবিধার চেয়ে বেশি মূল্যায়ন করেন। তিনি বলেন, মেসির সঙ্গে কথা বলে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে তার জন্য পরিবারিক সন্তুষ্টি সবকিছুর উপরে। হাইলি এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে বলেন, মেসির পরিবারিক মূল্যবোধকে তিনি উচ্চ প্রশংসা করেন এবং তার পছন্দকে সমর্থন করেন।
প্রতিষ্ঠানটি জোর দিয়ে বলেছে, মেসিকে সৌদি প্রো লিগে দেখতে আর্থিক দিক থেকে কোনো মূল্য নেই; তার উপস্থিতি নিজেই লিগের মর্যাদা বাড়িয়ে দেবে। আল‑ইত্তিহাদ আরও উল্লেখ করেন, যদি মেসি জার্সি পরেন, তারা লিগের শুরুর আগেই শিরোপা উদযাপন করত। তিনি বলেন, মেসির মতো তারকা না থাকলেও লিগের গুণগত মান উন্নত হবে, তবে তার উপস্থিতি হলে তা অতিরিক্ত গৌরব এনে দেবে।
মেসির বর্তমান চুক্তি এবং ইন্টার মায়ামিতে তার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বিবেচনা করে, আল‑ইত্তিহাদের জন্য তাকে শীঘ্রই সৌদি মাঠে দেখা কঠিন বলে মনে হচ্ছে। তবে ক্লাবের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা থেকে দেখা যায়, ভবিষ্যতে কোনো সময়ে পুনরায় আলোচনার সম্ভাবনা বাদ দেওয়া যায় না। হাইলি জানান, মেসি যদি কখনো তার পরিবারিক পরিস্থিতি পরিবর্তন করে, তবে আল‑ইত্তিহাদ আবার দরকষাকষি করতে প্রস্তুত থাকবে।
সৌদি আরবের ফুটবল প্রো লিগের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক তারকা আকর্ষণের লক্ষ্যে আল‑ইত্তিহাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। মেসির মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়কে অর্জনের জন্য আর্থিক শক্তি ব্যবহার করা ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও এই মুহূর্তে মেসি সৌদি মাঠে না আসলেও, আল‑ইত্তিহাদের প্রস্তাবের আকার এবং দৃঢ়তা ভবিষ্যতে আরও বড় চুক্তির দরজা খুলে দিতে পারে।



