চুয়াডাঙ্গার জিবননগরে গত বুধবার রাতে সেনাবাহিনীর অভিযান চলাকালে বিএনপি জিবননগর পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু আটক হন। আটককৃত অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়ে, পরে জিবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তরিত হয়ে রাত ১২টা ২৫ মিনিটে উপস্থিত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্য অস্ত্র উদ্ধার নামে শামসুজ্জামানকে ধরার পর নির্যাতন করে তার মৃত্যু ঘটিয়েছেন বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
বিএনপি মহাসচিবের মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর এই ধরনের কাজ দেশের আইনি কাঠামোর প্রতি গুরুতর অবমাননা এবং দেশের স্বার্থের বিরোধী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে কোনো অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হবে, এটাই জনগণের প্রত্যাশা।
সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) একই ঘটনার উপর একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, অভিযানের পর শামসুজ্জামান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়ে তা জানায়। তিনি দ্রুত জিবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে মৃত ঘোষণা করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযানের সময় শামসুজ্জামানকে তার নিজস্ব ব্যবসা ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে আটক করা হয়। শামসুজ্জামান জিবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং তার ব্যবসা ও রাজনৈতিক কার্যক্রম উভয়ই স্থানীয় স্তরে সক্রিয় ছিল।
বিএনপি নেতারা ও সমর্থকরা শামসুজ্জামানের মৃত্যুর খবর জানার সঙ্গে সঙ্গেই রাস্তায় নেমে এসে হাসপাতালের সামনের সড়কে অগ্নিকুণ্ডলী জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করেন। তারা ঘটনাটিকে ‘হত্যা’ বলে অভিহিত করে, নিরাপত্তা বাহিনীর উপর কঠোর তদন্তের দাবি তোলেন।
সেই সময়, সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডারসহ সংশ্লিষ্ট সকল সেনা সদস্যকে অভিযানের পর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া, ঘটনাটির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে আইএসপিআর জানিয়েছে।
বিএনপি মহাসচিবের মতে, এই ধরনের রোমহর্ষক ও মর্মান্তিক ঘটনার সমাধানে সেনাপ্রধানের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা করা এই কাজ দেশের আইনি নীতির প্রতি চরম অবমাননা এবং তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে, শামসুজ্জামানের মৃত্যুর দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিএনপি নেতৃত্বের দাবি অনুযায়ী, শামসুজ্জামানের মৃত্যুর পেছনে নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার এবং নির্যাতনের ইঙ্গিত রয়েছে। তিনি এই ঘটনার জন্য সেনাপ্রধানকে হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেন, যাতে দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত হয়।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযানের সময় শামসুজ্জামানকে ‘অস্ত্র উদ্ধার’ নামে আটক করা হয় এবং তার পরবর্তী অসুস্থতা ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত চালু করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর, জিবননগর এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় স্তরে বিএনপি কর্মীরা শামসুজ্জামানের মৃত্যুকে রাজনৈতিক সহিংসতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমের ওপর কঠোর নজরদারির দাবি করছেন।



