ইরা ত্রিবেদি এবং চলচ্চিত্র প্রযোজক মধু মানতেনা মকর সংকর্ষের শুভ দিনে প্রথম সন্তানের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন। উভয়ই সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই আনন্দদায়ক খবর শেয়ার করেন, যা অনলাইন অনুসারীদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ইরার পোস্টে তিনি জীবনের নতুন অধ্যায়কে ‘ফুলে ওঠা’ হিসেবে বর্ণনা করে, কৃষ্ণের আশীর্বাদ ও মকর সংকর্ষের পবিত্রতা কামনা করেছেন। তিনি নিজে ও স্বামীর জন্য এই উপহারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, ভবিষ্যৎ সন্তানকে সুস্বাস্থ্যের কামনা জানান।
ইরা ত্রিবেদি আধুনিক যোগের অন্যতম প্রধান শিক্ষক, যিনি হঠ হা যোগের ক্লাসিক পদ্ধতি ও ব্যক্তিগতকৃত শিক্ষাদানের জন্য পরিচিত। তার শিক্ষণ শৈলী আত্ম-অন্বেষণ ও শারীরিক সুস্থতার সমন্বয় ঘটায়, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে।
গত বছর তিনি BBC-র “১০০ সর্বাধিক প্রভাবশালী নারী” তালিকায় স্থান পেয়েছেন এবং ভারতে Verve ম্যাগাজিনের “৫০ সর্বাধিক প্রভাবশালী নারী”র মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এই স্বীকৃতিগুলি তার যোগ ও সুস্থতা ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
মধু মানতেনা ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের একটি পরিচিত নাম, যিনি বহু বাণিজ্যিক ও সমালোচনামূলক সফল চলচ্চিত্রের পেছনে প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন। তার প্রযোজনা তালিকায় “ঘাজিনি”, “কুইন”, “মাসান” এবং “সুপার ৩০” অন্তর্ভুক্ত, যেগুলি বক্স অফিসে উচ্চ সাফল্য অর্জন করেছে।
এছাড়াও তিনি নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ “স্যাক্রেড গেমস”-এর উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, যা আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছে। তার প্রযোজনা শৈলী বৈচিত্র্যময় বিষয়বস্তু ও শক্তিশালী চরিত্রের উপর ভিত্তি করে, যা সমসাময়িক ভারতীয় সিনেমার দিগন্তকে প্রসারিত করেছে।
ইরা ও মধু জুন ২০২৩-এ একটি ছোট, ঘনিষ্ঠ অনুষ্ঠানে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরিবার ও নিকট বন্ধুদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানটি দু’জনের জন্য একটি নতুন জীবনের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
মকর সংকর্ষের দিনটি হিন্দু ধর্মে সূর্যের উত্তরায়ণ ও নতুন সূচনার প্রতীক, যা দম্পতির গর্ভধারণের ঘোষণার সঙ্গে মানসিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই পবিত্র দিনে তারা ভবিষ্যৎ সন্তানকে আশীর্বাদ ও সমৃদ্ধির কামনা করেছেন।
প্রথম গর্ভধারণের এই সংবাদটি উভয়ই ব্যক্তিগত ও পেশাগত দিক থেকে নতুন দায়িত্বের সূচনা নির্দেশ করে। গর্ভবতী নারী ও তার পরিবারকে স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক শান্তি বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
যারা গর্ভধারণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিয়মিত গাইনিক চেক‑আপের গুরুত্ব অপরিহার্য। বিশেষ করে যোগের মতো হালকা ব্যায়াম শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে।
সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা এই সুখবরটি অনলাইন সম্প্রদায়কে ইতিবাচক আলোকে আলোকিত করেছে এবং গর্ভধারণের সময় স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে একটি উদাহরণ স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে দম্পতি ও তাদের পরিবারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে, সকলকে সুস্থ ও সমৃদ্ধ জীবনের কামনা করা যায়।



