রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হওয়ায়, সরকারী কাঠামো বদলাচ্ছে এবং দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের সময় এসেছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে, সমাজ-অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোকে দশটি প্রধান কাজের মধ্যে ভাগ করে সমাধান করা প্রয়োজন।
প্রথম কাজটি হল আয় বৈষম্য হ্রাস করা, যা ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের মূল দাবি ছিল। ১৯৯১ থেকে ২০২২ পর্যন্ত গিনি সহগ ০.৩৮৮ থেকে ০.৫৭০ে বেড়েছে, ফলে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে ফাঁক বাড়ছে এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধনী গোষ্ঠীর হাতে আটকে যাচ্ছে। এই চক্রকে ‘বৈষম্য ফাঁদ’ বলা হয়।
বৈষম্য কমাতে প্রথমে ‘প্রাথমিক আয়’‑এর সমতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রাথমিক আয় বলতে শ্রম ও মূলধনের মাধ্যমে অর্জিত বেতন, মুনাফা, ভাড়া ইত্যাদি বোঝায়, যা বাজার আয় নামেও পরিচিত। এর জন্য ন্যূনতম মজুরির ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং কর্মী ও মালিকের মধ্যে মুনাফা ভাগাভাগি করার নীতি প্রয়োগ করা জরুরি।
দুঃখজনকভাবে, ২০১১‑২০১৫ সময়কালে মজুরি মাত্র ১.১৫ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও একই সময়ে মাথাপিছু আয় ৪.৯ শতাংশ বাড়েছে। এই পার্থক্য দেখায় যে শ্রমিকদের আয় উৎপাদনের সঙ্গে সমানভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে না।
দ্বিতীয় স্তরে ‘ব্যয়যোগ্য আয়’‑এর বৈষম্য কমাতে কর ব্যবস্থা পুনর্গঠন প্রয়োজন। করের হার যদি ধনী ও গরিবের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখে, তবে আয় পুনর্বণ্টন কঠিন হয়ে যায়। তাই করের কাঠামোকে প্রগতিশীল করে, সঠিকভাবে কার্যকর করা উচিত।
আয় পুনর্বণ্টনের আরেকটি উপায় হল নগদ ও অ-নগদ স্থানান্তর। নগদ স্থানান্তর সরাসরি দরিদ্র পরিবারের হাতে পৌঁছায়, আর অ-নগদ স্থানান্তর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো জনসেবা প্রদান করে। উভয়ই সঠিকভাবে পরিচালিত হলে দারিদ্র্য কমাতে কার্যকর।
অ-নগদ স্থানান্তর সমাজের সংহতি বাড়ায়, কারণ শিক্ষিত ব্যক্তি অন্যদের জন্যও উপকারি প্রভাব ফেলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, একটি শিশুর শিক্ষার মাধ্যমে তার পরিবার ও প্রতিবেশীর জীবনমান উন্নত হয়। এ ধরনের ইতিবাচক বহিঃপ্রভাবকে ‘সামাজিক বহিরাগততা’ বলা হয়।
দ্বিতীয় কাজটি হল শাসনব্যবস্থার উন্নতি, যা ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ প্রশাসনের ভিত্তি গড়ে তুলবে। যদিও মূল নিবন্ধে এই বিষয়ে বিশদ আলোচনা নেই, তবে ভাল শাসন নিশ্চিত করা অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়নের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
এই দশটি কাজের মধ্যে অন্যান্যগুলোও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যেমন অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রযুক্তি গ্রহণ, মানবসম্পদ বিকাশ, এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা শক্তিশালী করা। প্রতিটি কাজের সফলতা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।
নতুন রাজনৈতিক পরিবেশে, এই কাজগুলোকে বাস্তবায়ন করলে সামাজিক সমতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নাগরিকদের জীবনের মান উন্নত হবে। সরকার ও সমাজের সকল স্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, যাতে বৈষম্য হ্রাস পায় এবং সমৃদ্ধি ভাগাভাগি হয়।
অবশেষে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি, নীতি নির্ধারণে স্বচ্ছতা এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। ভবিষ্যতে এই দশটি কাজের অগ্রগতি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



