বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের দাবি ও ক্রিকেটারদের খেলা বয়কটের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কোয়াব-এ অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে।
মিরাজ উল্লেখ করেন, পরিচালকের মন্তব্যগুলো খেলোয়াড়দের জন্য দুঃখজনক এবং পুরো ক্রীড়াঙ্গনের জন্য লজ্জাজনক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তারা সবসময় বোর্ডকে নিজের অভিভাবক হিসেবে দেখে এবং তার প্রতি সম্মান বজায় রাখে।
খেলোয়াড়দের আয়ের বিষয়ে সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণা নিয়ে মিরাজ কঠোর সমালোচনা করেন। “আমাদের টাকায় তোমরা চলছো” এমন মন্তব্যগুলো তিনি শুনে বিরক্তি প্রকাশ করেন, তবে বাস্তবতা ভিন্ন বলে তিনি জোর দেন।
মিরাজের মতে, ক্রিকেটারদের প্রধান আয়ের উৎস হল আইসিসি থেকে প্রাপ্ত অংশ এবং স্পন্সরশিপ। তিনি ব্যাখ্যা করেন, জাতীয় দল নিয়মিত মাঠে খেলা চালিয়ে যাওয়ায় বিসিবির আর্থিক ভিত্তি মজবুত থাকে।
বিসিবির বর্তমান আর্থিক অবস্থা, মিরাজের কথায়, পুরো দলের সমষ্টিগত প্রচেষ্টার ফল। “আজ বিসিবির যে অর্থ রয়েছে, জার্সি পরে যে কোনো খেলোয়াড়ের অবদান আছে,” তিনি বলেন, এবং এটিকে একক গোষ্ঠীর টাকা নয়, সকলের পরিশ্রমের ফলাফল হিসেবে তুলে ধরেন।
বোর্ডের শক্ত অবস্থানের পেছনে মাঠে খেলা চালিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব মিরাজ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যদি ম্যাচ না হয়, স্পন্সর আসবে না এবং আইসিসি থেকে কোনো লভ্যাংশ পাওয়া যাবে না।
নাজমুল ইসলামের মন্তব্যকে ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে মিরাজ অস্বীকার করেন। তার মতে, এই বিষয়টি পুরো ক্রীড়াঙ্গনের সম্মানের সঙ্গে যুক্ত, তাই তা কোনো একক ব্যক্তির ওপর সীমাবদ্ধ নয়।
পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক, মিরাজ জোর দিয়ে বলেন। “খারাপ খেললে কোনো খেলোয়াড় সমালোচনা থেকে মুক্ত নয়,” তিনি উল্লেখ করেন, এবং সমালোচনার বাস্তবতা তুলে ধরেন।
কিছু লোকের ধারণা যে ক্রিকেটাররা সরকারের টাকা পায়, তা মিরাজ স্পষ্টভাবে নাকচ করেন। তিনি বলেন, “আমরা সরকার থেকে কোনো আর্থিক সহায়তা পাই না, সব আয় মাঠে খেলা থেকে আসে।” এই বক্তব্যে তিনি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চেয়েছেন।
মিরাজ আরও জানান, ক্রিকেটাররা দেশের অন্যতম বড় করদাতা। তারা অর্জিত আয়ের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ আয়কর হিসেবে সরকারকে প্রদান করে, যা দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
বিসিবি পরিচালকের পদত্যাগের দাবি এবং খেলোয়াড়দের বয়কটের পটভূমিতে মিরাজের এই বক্তব্যগুলো ক্রীড়াঙ্গনের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা তুলে ধরেছে। তিনি বোর্ডের আর্থিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে খেলোয়াড়দের অবদানকে সমানভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন।
মিরাজের মতে, ভবিষ্যতে যদি দল নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশগ্রহণ করে, তবে স্পন্সর ও আইসিসি থেকে প্রাপ্ত তহবিল স্থিতিশীল থাকবে। এই ধারাবাহিকতা কেবল বোর্ডের নয়, পুরো দেশের ক্রীড়া খাতের জন্যই উপকারী হবে।
শেষে মিরাজ বললেন, “আমরা সবসময় বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করব, যাতে দেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন ও আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় থাকে।” এই মন্তব্যগুলো ক্রিকেটারদের আর্থিক স্বতন্ত্রতা ও দায়িত্বের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে।



