বহু হিটের পরেও সাম্প্রতিক সময়ে বলিউডের বেশ কিছু ছবি বক্স অফিসে প্রত্যাশার নিচে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে জনপ্রিয় অভিনেতা কার্তিক আরিয়ান ‘তু মেরি মেইন তেরা মেইন তেরা তু মেরি’ ছবির জন্য তার চুক্তিকৃত পারিশ্রমিকের মধ্যে থেকে ১৫ কোটি টাকা স্বেচ্ছায় বাদ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তটি ছবির মুক্তির কয়েক দিন পরই নেওয়া হয়, যখন ছবিটি দর্শকের আগ্রহ জাগাতে ব্যর্থ হয়।
‘তু মেরি মেইন তেরা মেইন তেরা তু মেরি’ ছবিটি ধর্মা প্রোডাকশনের অধীনে তৈরি হয় এবং কার্তিকের প্রধান ভূমিকা ছিল। তবে মুক্তির প্রথম সপ্তাহে টিকিট বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় কম থাকায় মোট সংগ্রহ সীমিত রয়ে যায়। ছবির শিরোনামই দর্শকের মনে গেঁথে না থাকা একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
ফি থেকে ১৫ কোটি টাকা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি কার্তিকের ব্যক্তিগত উদ্যোগের ফল। তিনি প্রযোজক করণ জোহরের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত পারিশ্রমিকের একটি বড় অংশ স্বেচ্ছায় ত্যাগ করেছেন। এই পদক্ষেপটি শিল্পের মধ্যে একটি দায়িত্বশীল আচরণ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।
বহু বছর ধরে বলিউডে হিট-ফ্লপের চক্র দেখা যায়, যেখানে বেশিরভাগ বড় তারকাদের ছবি ব্যর্থ হলে তারা দ্রুত শ্যামল হয়ে যায়। তবে কার্তিকের এই কাজটি অন্যদের থেকে আলাদা, কারণ তিনি কেবল নিজের মুনাফা নয়, প্রযোজকের আর্থিক স্বার্থকেও বিবেচনা করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে কার্তিক আরিয়ান ও করণ জোহরের মধ্যে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। কিছু মিডিয়া সূত্র দাবি করেছিল যে দুজনের মধ্যে পেশাগত বন্ধন শেষ হয়েছে। তবে শিল্পের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো এই গুজবকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।
সেই সূত্রগুলো জানান যে দুজনই এখনও একসাথে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং গুজবের কোনো ভিত্তি নেই। গুজবের উত্স সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ না করেও, উভয়ের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা বজায় আছে বলে জানানো হয়েছে।
এই ধরনের স্বেচ্ছা ছাড়কে শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যখন অধিকাংশ হিন্দি ছবির টিকিট বিক্রি কমে যাচ্ছে, তখন প্রযোজকের আর্থিক চাপ কমাতে এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনেক সময় অভিনেতারা সফল ছবির পরই প্রশংসা পায়, আর ব্যর্থ হলে তারা দ্রুত দায়িত্ব থেকে সরে যায়। কার্তিকের এই কাজটি তার পেশাগত পরিপক্কতা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দেয়। এমন আচরণ ভবিষ্যতে তার ক্যারিয়ারকে দীর্ঘায়িত করতে সহায়ক হতে পারে।
এটি প্রথমবার নয় যে কার্তিক প্রযোজকের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কয়েক বছর আগে তার ‘শেহজাদা’ ছবির বক্স অফিস সংগ্রহ প্রত্যাশার নিচে যাওয়ার পরেও তিনি একই ধরনের ছাড় প্রদান করেন। সেই সময়েও এই পদক্ষেপকে শিল্পের মধ্যে প্রশংসিত করা হয়েছিল।
অভিনেতা ও প্রযোজকের মধ্যে পারস্পরিক সমর্থন দীর্ঘমেয়াদে উভয়ের জন্যই লাভজনক। যখন প্রযোজকরা আর্থিক চাপে থাকে, তখন এমন সমঝোতা চলচ্চিত্রের গুণগত মান ও বাজারে সাফল্য বাড়াতে সহায়তা করে।
পাঠকগণকে বলা যায়, চলচ্চিত্র শিল্পের এই ধরনের ইতিবাচক উদাহরণকে সমর্থন করা গুরুত্বপূর্ণ। সিনেমা দেখার সময় স্থানীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিয়ে, শিল্পের উন্নয়নে অবদান রাখা যায়। এছাড়া, চলচ্চিত্রের গুণমান ও সৃজনশীলতা মূল্যায়ন করে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা উচিত।
সামগ্রিকভাবে, কার্তিক আরিয়ানের ১৫ কোটি টাকা ফি থেকে ছাড় দেওয়া একটি দায়িত্বশীল পদক্ষেপ, যা বর্তমান বক্স অফিসের কঠিন পরিস্থিতিতে প্রযোজকের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে। এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে শিল্পের স্বচ্ছতা ও সমন্বয় বাড়াতে সহায়ক হবে।



