বাংলাদেশের মহিলা ফুতসাল দল আজ থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত SAFF Women’s Futsal Championship‑এ ভারতকে ৩-১ স্কোরে পরাজিত করে। ক্যাপ্টেন সাবিনা খাতুনের দু’গোল এবং দলগত সমন্বয়ই বিজয়ের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
প্রথমার্ধে বাংলাদেশ দ্রুতই আধিপত্য গড়ে তুলল। সাবিনা এবং ক্রিশ্ণা রানি সরকার একে অপরের সঙ্গে নিখুঁত পাসের মাধ্যমে দু’টি সুযোগ তৈরি করেন, যার ফলে সাবিনা প্রথম গোলটি নেটের পিছনে পাঠায়। এই গোলটি ম্যাচের প্রবাহকে স্পষ্টভাবে বাংলাদেশীর পক্ষে পরিবর্তন করে।
দ্বিতীয় গোলের জন্যও একই সংযোগ দেখা যায়। ক্রিশ্ণা রানি আবারও সাবিনাকে মুক্ত স্থান প্রদান করেন, এবং সাবিনা দ্রুতই শটটি গন্তব্যে পৌঁছে দ্বিতীয়বারের মতো স্কোর বাড়ায়। এই মুহূর্তে ভারতীয় দল রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে গিয়ে দু’গোলে পিছিয়ে পড়ে।
ইন্ডিয়ার প্রতিক্রিয়া তৃতীয় গোলের মাধ্যমে আসে। ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে, ভারতীয় ফোরওয়ার্ড মাতসুশিমা সুমায়া দ্রুত কাউন্টার‑আক্রমণে সুযোগ পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে একটি শক্তিশালী শট মারেন, যা গোলের জালে গিয়ে স্কোরকে ৩-১ করে তুলল। এই গোলটি ভারতকে সাময়িকভাবে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শেষের দিকে ভারতীয় দল একটি কনসোলেশন গোল করে। যদিও এই গোলটি ম্যাচের ফলাফল পরিবর্তন করতে পারেনি, তবু এটি দলের মনোবলকে কিছুটা উজ্জীবিত করে। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশই ম্যাচের শেষ সিগন্যাল পর্যন্ত আধিপত্য বজায় রাখে।
ম্যাচের পর বাংলাদেশি কোচ দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “সাবিনার নেতৃত্বে দলটি শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে খেলেছে, এবং ক্রিশ্ণার সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।” কোচের মতে, এই জয় দলকে টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।
বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা মাঠে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখিয়ে দেশের ফুতসাল ইতিহাসে নতুন একটি মাইলফলক স্থাপন করেছে। বিশেষ করে ক্যাপ্টেনের দু’গোল এবং মিডফিল্ডের সঠিক পাসিং, যা দলের আক্রমণকে সুনির্দিষ্ট করে তুলেছে, তা প্রশংসার যোগ্য।
ইন্ডিয়ার তরফে, যদিও তারা শেষ পর্যন্ত হেরে গেল, তবু মাতসুশিমা সুমায়ার গোলটি তাদের আক্রমণাত্মক সম্ভাবনা নির্দেশ করে। কোচের মতে, দলের রক্ষণাত্মক দিক উন্নত করতে হবে, বিশেষ করে সাবিনার মতো দ্রুতগতির ফরোয়ার্ডের মোকাবেলায়।
এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ টুর্নামেন্টে শীর্ষস্থানীয় অবস্থান বজায় রাখবে এবং পরবর্তী ম্যাচে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে। দলটি এখন পর্যন্ত অর্জিত পয়েন্টের ভিত্তিতে গ্রুপে অগ্রগতি নিশ্চিত করতে চায়।
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখায়, বাংলাদেশ ৩ গোলের বেশি শুট করেছে এবং শুটিং নির্ভুলতায় ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া দলটি বলের দখল এবং পাসের সফলতা হারেও সুবিধা পেয়েছে, যা তাদের জয়ের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
ফুতসাল প্রেমিকদের জন্য এই ম্যাচটি উত্তেজনাপূর্ণ ছিল, কারণ দুই দলই দ্রুতগতির এবং ট্যাকটিক্যাল খেলা উপস্থাপন করেছে। দর্শকরা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশির উচ্ছ্বাসে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিল।
টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে বাংলাদেশ কোন দলকে মুখোমুখি হবে তা এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে দলটি প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে এবং নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য আত্মবিশ্বাসী। কোচের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, “প্রতিটি ম্যাচে আমরা আমাদের সেরা পারফরম্যান্স দিতে চাই এবং শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে অগ্রসর হব।”
এই জয়টি শুধু স্কোরবোর্ডে নয়, দেশের ফুতসাল উত্সাহীদের মনেও একটি বড় সাফল্য হিসেবে রেকর্ড হবে। ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশি নারী ফুতসাল দলকে সমর্থন ও উৎসাহিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।



