বনানীর একটি সংবাদ সম্মেলনে দেশের শীর্ষ ক্রিকেটাররা স্পষ্ট শর্তে জানালেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করলে তারা কোনো ম্যাচে অংশ নেবে না। এই সিদ্ধান্তের পেছনে তারা পাঁচটি মূল কারণ উল্লেখ করেছেন, যা সমাধান না হলে মাঠে পা রাখার কোনো সম্ভাবনা নেই।
খেলোয়াড়রা জোর দিয়ে বললেন, শর্ত পূরণ হলে তারা তৎক্ষণাৎ প্রস্তুত এবং দেশের প্রতিনিধিত্বে ফিরে আসতে ইচ্ছুক। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা অনিচ্ছুক, কারণ তারা বিশ্বাস করে যে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান না হলে ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রথম কারণ হিসেবে ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেটের বর্তমান সংকটকে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভাগীয় স্তরে টুর্নামেন্টের সময়সূচি, মাঠের অবস্থা এবং প্রতিযোগিতার মান নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরেও যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়া হলে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়বে বলে তারা সতর্ক করেছে।
দ্বিতীয় কারণটি নারী ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রতি বিসিবির অবস্থান। খেলোয়াড়রা উল্লেখ করেছেন, নারী খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য সংস্থার দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন, যা এখনো যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি। এই বিষয়টি সমাধান না হলে নারী ক্রিকেটের বিকাশে বাধা সৃষ্টি হবে।
তৃতীয় এবং সবচেয়ে স্পষ্ট দাবি হল এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ। খেলোয়াড়রা বলেন, বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে সংগঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং নীতি-নির্ধারণে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে, ফলে তারা আর বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প দেখতে পাচ্ছেন না।
চতুর্থ কারণটি নারী ক্রিকেটে সুযোগ-সুবিধার অভাব। খেলোয়াড়রা দাবি করেন, নারী দলের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ সুবিধা, আর্থিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের সুযোগ না থাকায় তাদের প্রতিভা বিকশিত হচ্ছে না। এই ঘাটতি দূর না হলে নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকবে।
পঞ্চম কারণ হিসেবে বিসিবির সামগ্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। খেলোয়াড়রা উল্লেখ করেছেন, সংস্থার অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা, সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগের পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
কোয়াব (ক্রীড়া ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন সম্মেলনে বলেন, তারা শুধুমাত্র এক শর্তে মাঠে পা রাখবে: বিসিবি যদি দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নাজমুলকে পদত্যাগের জন্য বাধ্য করে। এই সময়সীমা অতিক্রান্ত হলে কোনো ম্যাচের দায়িত্ব তারা নেবে না এবং খেলাটিকে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত সংস্থারই হবে।
খেলোয়াড়রা জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন, তাদের এই অবস্থান কোনো ব্যক্তিগত বিরোধের ভিত্তিতে নয়, বরং ক্রিকেটের স্বচ্ছতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং সকল স্তরের খেলোয়াড়ের অধিকার রক্ষার জন্য। তারা আশা করেন, বিসিবি দ্রুত এই দাবিগুলো মেনে নেবে, যাতে দেশের ক্রিকেট পুনরায় স্বাভাবিক পথে ফিরে আসে।
এ পর্যন্ত বিসিবি থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। তবে খেলোয়াড়দের এই দৃঢ় অবস্থান সংস্থার ওপর চাপ বাড়িয়ে তুলেছে, এবং শীঘ্রই সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়সীমা শেষ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ প্রত্যাশিত।
যদি শর্তগুলো পূরণ না হয়, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ টুর্নামেন্ট এবং আন্তর্জাতিক সিরিজের সূচি বিপর্যস্ত হতে পারে, যা ভক্ত, স্পনসর এবং ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর হবে। খেলোয়াড়রা এই সম্ভাব্য প্রভাবের কথা স্বীকার করে, তবে তারা বিশ্বাস করে যে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।



