27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসিঙ্গাপুরের বিরোধী দলনেতা প্রিতম সিংহকে নেতৃত্বের পদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে

সিঙ্গাপুরের বিরোধী দলনেতা প্রিতম সিংহকে নেতৃত্বের পদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে

সিঙ্গাপুরের পার্লামেন্টে বুধবার একটি ভোটের পর বিরোধী দলনেতা প্রিতম সিংহকে আর বিরোধী দলের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। ভোটটি পার্লামেন্টের বেশিরভাগ সদস্যের অধীনস্থ শাসনকারী পিপলস অ্যাকশন পার্টি (PAP) এর সমর্থনে অনুষ্ঠিত হয়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে সিংহের পার্লামেন্টারি কমিটিতে শপথ ভঙ্গের দোষে দোষী সাব্যস্ত হওয়া একটি মামলা রয়েছে।

বৈধভাবে পার্লামেন্টে অধিকাংশ আসন PAP এর হাতে, তবে সিংহের বিরুদ্ধে গৃহীত ভোটে সব ১১ জন ওয়ার্কার্স পার্টি (WP) সদস্যই বিরোধিতা করেছে। ভোটের ফলাফল অনুযায়ী সিংহকে আর বিরোধী দলের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া হবে এবং তার অতিরিক্ত ভাতা ও পার্লামেন্টে প্রথম উত্তর দেওয়ার অধিকারও বাতিল করা হবে।

সিংহের শপথ ভঙ্গের দোষে দোষী সাব্যস্ত হওয়া মামলাটি পার্লামেন্টের একটি কমিটিতে তার সাক্ষ্যের সময় ঘটেছিল। যদিও তিনি সর্বদা নিজের নির্দোষতা দাবি করে আসছেন, আদালত তার শপথ ভঙ্গের প্রমাণে দোষী রায় দিয়েছে। এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ং সিংহের নেতৃত্বের পদ আর চালিয়ে যাওয়া “অসামঞ্জস্যপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেন।

দলনেতা পদ থেকে বাদ পড়লেও সিংহ এখনও পার্লামেন্টের সদস্য এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সেক্রেটারি-জেনারেল হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন। তবে তিনি আর অতিরিক্ত পার্লামেন্টারি ভাতা পাবেন না এবং পার্লামেন্টের বিতর্কে প্রথম উত্তর দেওয়ার সুযোগও হারাবেন।

সিংহের এই দোষী রায় সিঙ্গাপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরোধী পার্লামেন্টারির বিরুদ্ধে গৃহীত একমাত্র অপরাধমূলক রায়ের মধ্যে একটি, এবং তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি বিরোধী দলের নেতা পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

পূর্বে সরকারকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে, যদিও সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে। এই প্রসঙ্গে পার্লামেন্টের হাউস লিডার ইন্দ্রানি রাজাহ, যিনি বিতর্কের সূচনা করেন, সিংহের শপথ ভঙ্গকে “জনগণের পার্লামেন্টে বিশ্বাসের ক্ষতি” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তাকে দায়িত্ব গ্রহণে ব্যর্থ বলে সমালোচনা করেন।

বিতর্কের সময় সিংহ নিজে তার ন্যায়পরায়ণতা রক্ষা করে বলেন, তার আত্মবিশ্বাস পরিষ্কার এবং পার্লামেন্টের আলোচনায় গৃহীত রেজোলিউশনকে “অশোভন ও অনুপযুক্ত” বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে তার দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিতর্কের শেষের দিকে পার্লামেন্ট একটি প্রস্তাব পাস করে যে সিংহকে আর বিরোধী দলের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া হবে। ওয়ার্কার্স পার্টির সব ১১ জন উপস্থিত সদস্যই এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন, তবে পার্লামেন্টের বেশিরভাগই তা অনুমোদন করে। একইসাথে পার্লামেন্ট দুইজন ওয়ার্কার্স পার্টি সদস্যের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপও পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

বুধবারের ভোটের পরপরই প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ং জানিয়ে দেন যে সিংহের দোষী রায় এবং পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে তার নেতৃত্বের পদ আর বজায় রাখা সম্ভব নয়। তিনি এই সিদ্ধান্তকে পার্লামেন্টের স্বচ্ছতা ও নৈতিক মানদণ্ড রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন।

বিবিএসের টেক্সট মেসেজিং সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে সিংহ এক শব্দে উত্তর দেন: “#WeContinue”। একই সঙ্গে বিবিএসও ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে, তবে তা এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments