নেটফ্লিক্সে বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, তিন ভাগে ভাগ করা নতুন ড্রামা সিরিজ “অ্যাগাথা ক্রিস্টির সেভেন ডায়ালস” প্রকাশিত হয়েছে। সিরিজটি বিখ্যাত লেখক অ্যাগাথা ক্রিস্টির দুইটি উপন্যাস—”দ্য সিক্রেট অফ চিম্নিস” এবং “দ্য সেভেন ডায়ালস মিস্ট্রি”—এর ভিত্তিতে তৈরি এবং ক্রিস্টির ক্লাসিক রহস্যের আধুনিক রূপান্তর হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিয়া ম্যাককেনা-ব্রুস, যাকে সিরিজে লেডি আইলিন ব্রেন্ট, যাকে পার্টিতে “বাণ্ডল” নামে ডাকা হয়, হিসেবে দেখা যায়। বাণ্ডল হলেন লেডি ক্যাটারহ্যামের কন্যা, যিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরপরই আর্থিক সমস্যায় পড়া ব্রিটিশ অভিজাত পরিবারের সদস্য। তার চরিত্রটি ক্রিস্টির মূল নায়িকাদের মধ্যে এক, যিনি বুদ্ধি ও সাহসিকতায় পরিপূর্ণ।
মিয়া ম্যাককেনা-ব্রুসের বয়স ২৮ বছর, এবং তিনি পূর্বে ব্রিটিশ স্বাধীন চলচ্চিত্র “হাউ টু হ্যাভ সেক্স”-এ চমৎকার পারফরম্যান্স দিয়ে নজর কেড়েছিলেন। তবে এই সিরিজে তার ভূমিকা তাকে বৃহত্তর দর্শকের সামনে তুলে ধরেছে এবং তাকে নতুন স্তরে পৌঁছে দিয়েছে। তার অভিনয়কে বুদ্ধিদীপ্ত, আকর্ষণীয় এবং দৃঢ়সঙ্কল্পী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
সিরিজের অন্যান্য প্রধান অভিনেতাদের মধ্যে রয়েছেন হেলেনা বোনহাম কার্টার, যিনি লেডি ক্যাটারহ্যামের ভূমিকায় উপস্থিত, মার্টিন ফ্রিম্যান এবং এডওয়ার্ড ব্লুমেল, যারা গল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সিরিজের স্রষ্টা ক্রিস চিবনাল, যিনি “ডক্টর হু”-এর স্রষ্টা হিসেবেও পরিচিত, তিনি এই রূপান্তরে গল্পের কাঠামোকে আধুনিক দর্শকের জন্য উপযোগী করে গড়ে তুলেছেন।
সামগ্রিকভাবে, “সেভেন ডায়ালস” একটি হালকা মেজাজের রহস্য নাটক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, যেখানে গল্পের গতি তিন ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ। যদিও তিনটি পর্বে বিস্তৃত, কিছু দর্শক এটিকে সামান্য দীর্ঘ বলে অনুভব করতে পারেন, তবে তা সিরিজের স্বতন্ত্র শৈলীকে ক্ষুণ্ন করে না।
প্রারম্ভিক দৃশ্যটি সুন্দরভাবে চিত্রায়িত, যেখানে আইয়ান গ্লেন অভিনীত এক অজানা চরিত্রের মৃত্যু দেখানো হয়েছে। যদিও এই অংশে কম্পিউটার গ্রাফিক্সের ব্যবহার নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে, তবু তা গল্পের প্রবাহে কোনো বাধা সৃষ্টি করেনি।
সিরিজের ভিজ্যুয়াল স্টাইলকে প্রশংসা করা হয়েছে; প্রাকৃতিক দৃশ্যের সঙ্গে সূক্ষ্ম সিএজি সংযোজনের মাধ্যমে সময়ের পরিবেশকে জীবন্ত করে তোলা হয়েছে। তবে কিছু সমালোচক উল্লেখ করেছেন যে, অতিরিক্ত সিএজি কখনো কখনো দৃশ্যের স্বাভাবিকতা নষ্ট করতে পারে।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই সিরিজটি নেটফ্লিক্সের জন্য একটি নতুন ধরনের কন্টেন্ট হিসেবে দেখা যায়, যেখানে ক্লাসিক সাহিত্যকে আধুনিক স্ট্রিমিং ফরম্যাটে উপস্থাপন করা হয়েছে। একই সময়ে, নেটফ্লিক্সে ইতিমধ্যে “নাইভস আউট”-এর মতো ক্রিস্টি-অনুপ্রাণিত চলচ্চিত্রও রয়েছে, যা দর্শকদের জন্য অতিরিক্ত আকর্ষণ তৈরি করে।
সিরিজের গল্পের গঠন এবং চরিত্রের বিকাশকে কিছুটা হালকা এবং বিস্তৃত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা পরিবারিক বা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে উপভোগ্য হতে পারে। এটি পিবিএস, অ্যাকর্ন বা ব্রিটবক্সের মতো প্ল্যাটফর্মের জন্যও উপযুক্ত হতে পারত, তবে নেটফ্লিক্সের বিশাল দর্শকগোষ্ঠী এটিকে বৃহত্তর পরিসরে পৌঁছে দিয়েছে।
মিয়া ম্যাককেনা-ব্রুসের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি, হেলেনা বোনহাম কার্টারের অভিজ্ঞতা এবং মার্টিন ফ্রিম্যানের স্বাভাবিক হাস্যরস সিরিজের সামগ্রিক মানকে সমৃদ্ধ করেছে। তাদের সমন্বয় গল্পের মেজাজকে সঠিকভাবে বজায় রাখে এবং দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখে।
সারসংক্ষেপে, “অ্যাগাথা ক্রিস্টির সেভেন ডায়ালস” একটি মজাদার, হালকা এবং দৃশ্যত আকর্ষণীয় সিরিজ, যা ক্রিস্টির ক্লাসিক রহস্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়। যদিও গল্পের দৈর্ঘ্য কিছুটা বাড়িয়ে তোলা হয়েছে, তবু এটি বিনোদনমূলক এবং সহজে গ্রহণযোগ্য।
যদি আপনি ক্লাসিক রহস্যের ভক্ত হন অথবা মিয়া ম্যাককেনা-ব্রুসের নতুন পারফরম্যান্স দেখতে চান, তবে এই সিরিজটি আপনার জন্য উপযুক্ত বিকল্প হতে পারে। নেটফ্লিক্সের সদস্যরা এখনই এই তিনটি পর্ব দেখতে পারেন এবং বাণ্ডলের অভিযানে ডুবে যেতে পারেন।



